আসন্ন নির্বাচনে জাপানের তাকাইচি ও হাঙ্গেরির অরবানকে ট্রাম্পের সমর্থন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
আসন্ন নির্বাচনে জাপানের তাকাইচি ও হাঙ্গেরির অরবানকে ট্রাম্পের সমর্থন

জাপানের আগাম সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে হাঙ্গেরির আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকেও সমর্থন দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তাকাইচিকে একজন “শক্তিশালী, ক্ষমতাধর ও বুদ্ধিমান নেতা” হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি লেখেন, তাকাইচি প্রকৃত অর্থেই নিজের দেশকে ভালোবাসেন এবং জাপানের জনগণকে হতাশ করবেন না।

সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা অন্য দেশের নির্বাচনে প্রকাশ্যে কোনো প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন না। তবে ট্রাম্প এর আগেও ব্যতিক্রম করেছেন। সম্প্রতি তিনি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং হন্ডুরাসের নির্বাচনে নাসরি আসফুরাকে সমর্থন দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রেক্ষাপটে যখন টোকিও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তখন তাকাইচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। শুরুতে জাপানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও পরে দুই দেশের মধ্যে ৫৫ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তির পর শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়।

৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি গত অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী হন। সরাসরি জনসমর্থন নিশ্চিত করতে তিনি সম্প্রতি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্পকে টোকিওতে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন–এ দাঁড়িয়ে মার্কিন সেনাদের সামনে ট্রাম্পের সঙ্গে তাকাইচির উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়।

প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা ইস্যুতেও দুজনের অবস্থান প্রায় অভিন্ন। ট্রাম্প চান জাপান নিজস্ব নিরাপত্তায় আরও বেশি ব্যয় করুক, আর তাকাইচিও সেই নীতির সমর্থক। সাম্প্রতিক সফরে দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র–জাপান সম্পর্কের নতুন ‘স্বর্ণযুগ’ শুরুর ঘোষণাও দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সমর্থন শুধু জাপানের ভোটারদের জন্য নয়; বরং এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং বিশেষ করে চীনের প্রতিও একটি স্পষ্ট বার্তা। চীন–জাপান সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর আগে তাকাইচি বলেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, জাপান প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করতে পারে—যা বেইজিংয়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া ডেকে আনে।

জরিপে তাকাইচির বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা দেখা গেলেও, ক্ষমতায় ফিরলে তাঁকে স্থবির অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

হাঙ্গেরির অরবানকেও সমর্থন

আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হাঙ্গেরির আগামী এপ্রিলের সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প। অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান ও জাতীয়তাবাদী নীতির জন্য অরবানকে প্রশংসা করেন তিনি।

ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প অরবানকে “শক্তিশালী ও অক্লান্ত নেতা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি নিজের দেশ ও জনগণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।

ট্রাম্প জানান, অবৈধ অভিবাসন রোধ ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তাঁদের দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি এক। তাঁর প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র–হাঙ্গেরি সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হাঙ্গেরির ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় প্রধানমন্ত্রী থাকা অরবান (১৯৯৮–২০০২ এবং ২০১০ থেকে বর্তমান) এবার কঠিন নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের মুখে। সাম্প্রতিক জরিপে মধ্য–ডানপন্থী ‘তিসা’ পার্টি তাঁর দল ফিদেজ–এর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো অরবানের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র হ্রাস ও ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুললেও, ট্রাম্প বরাবরই তাঁর পাশে থেকেছেন।

Link copied!