• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, ১২ মুহররম ১৪৪৫

হৃদয় মণ্ডলের মুক্তি চেয়ে ৭২ শিক্ষকের বিবৃতি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২২, ১১:৩৮ এএম
হৃদয় মণ্ডলের মুক্তি চেয়ে ৭২ শিক্ষকের বিবৃতি

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনটির ৭২ জন শিক্ষক এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও ধর্ম নিয়ে বিতর্ক হয়। সেই স্বাভাবিক বিতর্ককে শিক্ষকের অজান্তে রেকর্ড করে ক্লাসের বাইরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় ক্লাসেরই শিক্ষার্থীরা। ক্লাসের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক এ থেকে ভিন্ন দিকে মোড় নেয়, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়, তিনি গ্রেপ্তার হন এবং তার জামিনও নামঞ্জুর হয়। ঘটনাটি আমাদের হতবাক করেছে এবং বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি।  

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা শ্রেণিকক্ষের ওই কথোপকথনের লিখিত রূপ পড়েছি এবং ওই আলাপচারিতাকে স্বাভাবিক এক বিতর্ক বলেই মনে করছি। শিক্ষকের দিক থেকে ধর্মীয় অবমাননার কোনো প্রয়াস তো ছিলই না, বরং যুক্তি দিয়ে, একাডেমিক ভঙ্গিতে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর ও ব্যাখ্যা করার একটি মনোভঙ্গি এতে স্পষ্ট ছিল। তার যুক্তি ও ব্যাখ্যার ধরন ও মান শিক্ষকসুলভ। যদিও শিক্ষার্থীর দিক থেকে ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নগুলো উদ্দেশ্যমূলক ভাবার অবকাশ রয়েছে। বক্তব্য রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেওয়া, মামলা হওয়া ইত্যাদির পরে এ ধারণাটি স্পষ্ট হয়।   

আলোচিত ঘটনাতে এটা এখন প্রমাণিত যে, শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল বিজ্ঞানের চর্চায় নিবেদিতপ্রাণ একজন এবং তার একান্ত সত্তাটি আপাদমস্তক শিক্ষকতারই সত্তা। কারণ যতটা ধৈর্য ধরে তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের উসকানিমূলক অযাচিত প্রশ্নের বিন্দুমাত্র বিরক্তি প্রকাশ ব্যতীত উত্তর করে গেছেন তা তার বিনয় ও জ্ঞানেরই বহিঃপ্রকাশ। এমন মহান একজন শিক্ষককে যেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা প্রয়োজন, সেখানে রাষ্ট্র তাকে কারাগারে বন্দি করেছে। 

গত ২০ মার্চ বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির মানবিক শাখার ক্লাস নেওয়ার সময় হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল ‘ধর্ম অবমাননা’ করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় ২২ মার্চ মামলা করেন স্কুলের অফিস সহকারী মো. আসাদ। সেদিনই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

Link copied!