• ঢাকা
  • রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১, ১১ শাওয়াল ১৪৪৫

সম্পর্কে স্পেস কেন প্রয়োজন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪, ০৫:০১ পিএম
সম্পর্কে স্পেস কেন প্রয়োজন

সম্পর্ক হতে পারে রক্তের বন্ধনের, আবার হতে পারে কারো সঙ্গে মনের মিলের। একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা, আনুগত্য, শ্রদ্ধাবোধ, মনের মিল হওয়া এই সবই সম্পর্কের প্রতিফলন। প্রেমের সম্পর্কের গন্ডিও এর বাইরে নয়। নিজেদের বোঝাপড়া, মনের মিল, ভালোলাগা থেকেই সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে এতো কিছুর মধ্যেও সম্পর্কে স্পেস বা ব্যক্তিগত পরিসর থাকা জরুরি। কারণ সম্পর্কে স্পেস না থাকলে তা নেতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হতে পারে। তাই সব ধরণের সম্পর্কের মধ্যেই স্পেস থাকা জরুরি।

সম্পর্কে স্পেস কী

স্পেস মানে ব্যক্তিগত পরিসর বা একান্ত নিজের সময়। নিজের মতো করে সময় কাটানোই স্পেস। সম্পর্কে জড়িয়ে গেলে অনেকেই এই স্পেস হারিয়ে ফেলে। নিজের জন্য় সময় বের করা, নিজের মতো করে সময় কাটানো ভুলে যায়। কিন্তু সম্পর্কে নিজস্ব পরিসর থাকা জরুরি। কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তাই বলে যে স্বাধীনভাবে নিজের মতো করে সময় কাটানো যাবে না তা ঠিক নয়। ভালোবাসার মানুষকে সময় দিচ্ছেন। এর বাইরে নিজের সময়টুকুও বের করে নিন। দু‍‍`জনেরই নিজের জগতে নিজেকে সময় দিতে হবে। এতে ব্যক্তি নিজেকে নিজের মধ্যে রিফ্রেশ করতে পারে। একজনের জিনিস অন্যজন বিনা অনুমতিতে ধরা যাবে না। এটি নিজেদের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ বাড়ায়। যার ফলে যেকোনো সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, স্পেস না থাকলে একটি সুন্দর সম্পর্ক অসুস্থ সম্পর্ককে পরিণত হতে পারে। শুধুমাত্র আপনজনের ক্ষেত্রেই নয়, যে কোনো মানুষের সঙ্গেই স্পেস থাকা দরকার। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে অযথা হস্তক্ষেপ করা কিংবা অতিরিক্ত জানতে চাওয়াও উচিত নয়। এটি স্পেস নষ্ট করে।

সম্পর্কে স্পেস কেন প্রয়োজন

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সম্পর্কে স্পেস প্রয়োজন। একে অন্যের সবকিছু জানে বলে তার সব বিষয়েই হস্তক্ষেপ বা উপস্থিতি থাকতে হবে মনে করা উচিত নয়। এটি সম্পর্কে একঘেয়েমি এনে দেয়। তাছাড়া সম্পর্ক গভীর হলেই যে একে অপরের ব্যক্তিগত পরিসরে পৌঁছে যেতে হবে, এমনটাও উচিত নয় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সম্পর্ক রক্ষার জন্য প্রয়োজন ‍‍`মি টাইম‍‍`। এক অপরের জীবনে দখলদারি করা বা অতিরিক্ত অধিকার দেখালে তাতে সম্পর্কে ভাঙন দেখা দিতে পারে। কারণ এরা সম্পর্কের মধ্যে নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। তাছাড়া সম্পর্কে স্পেস দেওয়া সম্মানের একটি অংশও। অনেকেই অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে সঙ্গীকে নিজের করে রাখতে চায়। প্রিয়জনের চিন্তা-ভাবনাকে গ্রাস করে ফেলে, সারাক্ষণ জোর খাটায়, অতিরিক্ত আবেগ শতভাগ দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। এমনটা সম্পর্কের জন্য় খারাপ হতে পারে। দিনশেষে অন্যজন নিজের ব্যক্তি স্বাধীনতা নষ্ট হচ্ছে বলে একসময় উপলব্ধি করতে পারে। ফলে একসময় সঙ্গীর কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ায়। সম্পর্কে ভীতি কাজ করে। তাই সুস্থ সম্পর্কের জন্য় স্পেস প্রয়োজন।

তবে সম্পর্কে স্পেস পরিমিত হওয়াই শ্রেয়। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, স্পেসের দোহাই দিয়ে যদি  স্বেচ্ছাচারিতা চলে তাহলে তাও ক্ষতিকর। স্বেচ্ছাচারিতাকে ‍‍`স্পেস‍‍` বলা যাবে না। সম্পর্কে স্পেসের দোহাই দিয়ে নিজের দায়িত্ববোধকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

Link copied!