অস্ট্রেলিয়ায় খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক অবদানে আলোচনা সভা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক অবদানে আলোচনা সভা

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে এক আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। জিয়া পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সিডনির গ্রামীন ফাংশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান মোল্লা ঝিন্টু এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খাইরুল কবির পিন্টু।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাছান, সিনিয়র সহ-সভাপতি একেএম ফজলুল হক শফিক, ডা. আব্দুল ওহাব বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এএনএম মাসুম, ইউনুস সেন্টারের প্রমিথিউস সিদ্দিকী, নিউ সাউথ ওয়েলস বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ ইরফান খান, সহ-কোষাধ্যক্ষ তানবীর আহম্মেদ খান এবং প্রচার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রাহান হাসনাত। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কুদ্দুসুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন যুবদল অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির হোসেন রাজু, প্রচার সম্পাদক লিন্টাস পেরেরা, নিউ সাউথ ওয়েলস বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ বাবুল খন্দকারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ১৯৮০-এর দশকে স্বৈরাচারী জেনারেল এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৩ সালে ৭-দলীয় জোট গঠন করে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং বারবার গৃহবন্দী হলেও স্বৈরাচারের সঙ্গে আপোষ করেননি, যা তাঁকে ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তাঁর এই অবদান সুদূরপ্রসারী ও অনস্বীকার্য বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন বেগম খালেদা জিয়া। একই বছর ৬ আগস্ট সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি পুনর্বহাল হয়, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে ক্ষমতা ছেড়ে দেন, যা তাঁর গণতান্ত্রিক আন্তরিকতা ও প্রজ্ঞার প্রমাণ।

নারী ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা সংস্কারে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, শিক্ষা বৃত্তি চালু এবং প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। এগুলো গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করে। তাঁর দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতিতে ২০১১ সালে নিউ জার্সি স্টেট সিনেট তাঁকে ‘ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি’ সম্মাননায় ভূষিত করে।


বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়েও বেগম খালেদা জিয়া ভোটাধিকার ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অবিচল ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সাহসিকতা দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Link copied!