সর্দি-কাশি বা গলাব্যথায় ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে আদা ব্যবহার প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে, কিন্তু আদা কি সত্যিই এসব উপসর্গ নির্মূল করতে পারে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, আদা এককভাবে সর্দি সারাতে না পারলেও এর প্রাকৃতিক গুণাগুণ সর্দির প্রতিরোধ, গলাব্যথা কমানো এবং প্রদাহ উপশমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
আদার ঔষধি গুণ: বিজ্ঞানের সাক্ষ্য
আদায় জিঞ্জেরল ও শোগাওল নামক যৌগ রয়েছে, যা এটিকে প্রাকৃতিক ওষুধে পরিণত করেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আদার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে শরীরে জীবাণুর বিস্তার রোধ করে। ল্যাব পরীক্ষায় এর অ্যান্টিভাইরাল ক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের এক গবেষণায় আদা-রসুনের মিশ্রণ ভাইরাস প্রতিরোধে আরও কার্যকরী বলে দেখা গেছে। প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য গলা সংক্রমণে কমিয়ে ফ্যারিঞ্জাইটিস উপশম করে, এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোষ রক্ষায় সহায়ক – শুকনো আদায় এই গুণ তুলনামূলকভাবে বেশি সময় সংরক্ষিত থাকে।
সর্দি-কাশির উপসর্গে আদার ভূমিকা
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, আদা সর্দি প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং উপসর্গ যেমন গলাব্যথা, কাশি কমাতে কার্যকর। ঝাঁঝালো স্বাদ ও উষ্ণতার কারণে গলায় আরাম দেয় এবং নিয়মিত সঠিক ব্যবহারে শরীরকে শক্তিশালী করে। তবে গুরুতর বা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য। আদা খাবার হিসেবে নিরাপদ এবং মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ক্ষমতা বাড়ে।
আদা ব্যবহারের সহজ উপায়
সর্দি-কাশিতে আদা ব্যবহারের নানা সহজ পদ্ধতি রয়েছে – গরম পানিতে আদা-লেবুর রস মিশিয়ে চা, কাঁচা আদার টুকরো চিবানো, রান্না বা স্যুপে যোগ করা, জুস বা স্মুদিতে মিশিয়ে, অথবা নারিকেল পানির সঙ্গে ব্লেন্ড করে ‘আদা শট’ তৈরি। এগুলো ঠান্ডা লাগলে প্রথমে ওষুধের বিকল্প হিসেবে কার্যকর কিন্তু সম্পূর্ণ নিরাময়ের গ্যারান্টি নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, আদা শরীরকে আরাম দেয় কিন্তু ওষুধের বদলে ব্যবহার করবেন না।




























