ডায়েট মানেই কি প্রিয় মিষ্টিকে বিদায় জানাতে হবে? একেবারেই না। খাবারের পুষ্টিগুণ নির্ভর করে শুধু নামের উপর নয়, বরং কোন উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কী ভাবে তা রান্না করা হচ্ছে—তার উপরেই আসল বিষয়টি দাঁড়িয়ে থাকে। ঠিক যেমন ময়দা দেওয়া গোলরুটির বদলে এখন অনেকেই ওট্সের চিলা বেছে নিচ্ছেন, বা চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করছেন প্রাকৃতিক মিষ্টি। একই যুক্তিতে ডায়েটের মধ্যেও জায়গা করে নিতে পারে চকো লাভা কেক।
নরম, তুলতুলে কেকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা গলনশীল চকোলেট—ছুরি ছোঁয়ালেই লাভার মতো গড়িয়ে পড়ে। দেখতে যেমন মনকাড়া, খেতেও তেমনই উপাদেয়। কিন্তু ডায়েটের সময় এই ধরনের মিষ্টি খাবার প্রায়শই বাদ পড়ে যায় তালিকা থেকে। কেউ লোভ সামলাতে পারেন, কেউ আবার চুপচাপ ডায়েট ভেঙে ফেলেন। অনেকের কাছেই তাই ওজন কমানোর পথটা হয়ে ওঠে মনখারাপের সঙ্গী।
কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, খাবার বেছে নেওয়ার পাশাপাশি রান্নার পদ্ধতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিকাগো নিবাসী পুষ্টিবিদ রেশমী রায়চৌধুরীর কথায়, “কী খাচ্ছেন তার থেকেও বেশি জরুরি, সেই খাবার কী ভাবে রান্না হচ্ছে। সামান্য ভুলে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।” তাই চকোলেট বা কেক মানেই যে অস্বাস্থ্যকর, এমন ধারণা বদলানোর সময় এসেছে। সঠিক উপকরণে তৈরি হলে এই মিষ্টিও ডায়েটের অংশ হতে পারে।
এই লাভা কেক তৈরিতে ময়দার বদলে ব্যবহার করতে হবে ওট্সের গুঁড়ো। প্রায় ৪০ গ্রাম ওট্স গুঁড়ো করে নিন। স্বাদ ও রংয়ের জন্য চিনি ছাড়া কোকো পাউডার ব্যবহার করুন। মিষ্টির জন্য চিনির পরিবর্তে নিতে পারেন মঙ্ক ফ্রুট, খেজুর কিংবা সামান্য মধু। কেক ফোলাতে এক চিমটে বেকিং সোডা ও অল্প বেকিং পাউডার যোগ করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী দুধ মিশিয়ে মসৃণ ব্যাটার তৈরি করুন।
এ বার লাভার পালা। তিন ভাগ কোকো পাউডারের সঙ্গে এক ভাগ দুধ ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি জমাট বাঁধাতে কিছু সময় ফ্রিজ়ারে রেখে দিন।
এর পরে একটি মগ বা বাটিতে অর্ধেক ব্যাটার ঢালুন। মাঝখানে জমাট বাঁধা কোকো–দুধের মিশ্রণটি বসিয়ে দিন। তার উপর বাকি ব্যাটার ঢেলে ঢেকে দিন। ১৭০–১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ১৫ মিনিট অভেনে বেক করুন।
বেকিং শেষ হলে গরম গরম কেক পরিবেশন করুন। ভেতরের গলনশীল চকোলেট লাভা উপভোগ করুন নিশ্চিন্তে। ময়দা ও চিনিমুক্ত এই কেক ওজন বাড়ানোর আশঙ্কা কমায়, পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে।


































