শীতেও প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা জরুরি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
শীতেও প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা জরুরি

গরমের দিনে সামান্য পরিশ্রমেই তেষ্টা পায় বলে পর্যাপ্ত পানি পান করা হয়। কিন্তু শীতকালে সেভাবে তেষ্টা অনুভব হয় না, তাই পানি পানের পরিমাণও কমে যায়। শীতের সময় বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় শরীরও দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে। এই মৌসুমে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের শরীরে পানির ঘাটতি হচ্ছে।

আমাদের শরীরের ৭০ শতাংশের বেশি পানি দিয়ে গঠিত। তাই সারা বছরই, এমনকি শীতকালেও পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমত, পানিশূন্যতার কারণে প্রচণ্ড ক্ষুধা অনুভূত হয়, কারণ মস্তিষ্ক অনেক সময় তৃষ্ণা ও ক্ষুধার সংকেত একসঙ্গে পাঠায়। এ ছাড়া হজমে সমস্যা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, যা শীতকালে বেশ সাধারণ একটি সমস্যা।

প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করবেন
স্বাভাবিক পানির চাহিদা একেক জনের ক্ষেত্রে ভিন্ন। শিশু, নারী ও পুরুষের পানির চাহিদা আলাদা। একইভাবে যারা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন বা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের পানির চাহিদাও অন্যদের তুলনায় বেশি। সাধারণভাবে নারীদের প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। তবে যারা ব্যায়াম বা ভারী কাজ করেন, তাদের ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন।

পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়। তবে যারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করেন, যেমন নির্মাণ শ্রমিক, কৃষক বা ভারী ব্যায়াম করেন, তাদের ১০ থেকে ১৪ গ্লাস পানি পান করা উচিত। এই পরিমাণ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধ করতে সাহায্য করে।

শীতে গরম পানি পানের উপকারিতা
শীতকালে ঠান্ডা পানি পান করতে অনেকেই অনীহা বোধ করেন। এই কারণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পান করা হয় না। এই সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে হালকা গরম পানি পান করা। হালকা গরম পানি পান করলে ঠান্ডা পানির তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। শুধু শীতকালেই নয়, সারা বছরই যদি হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তাহলে শরীর অনেক বেশি সুস্থ থাকবে।

গরম পানি শরীরের বাড়তি চর্বি ঝরিয়ে দিতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে মধু, আদা এবং লেবু মিশিয়ে পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়। এই মিশ্রণ শরীরের ভেতরের অতিরিক্ত চর্বি গলিয়ে দিতে বিশেষভাবে কার্যকর।

গরম পানি পান করলে শরীরে ঘাম হয়, যার মাধ্যমে শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। এতে ত্বক পরিষ্কার থাকে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো সুস্থ থাকে। বিশেষত যারা শহরের দূষিত পরিবেশে বসবাস করেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতি খুবই উপকারী।

খাওয়ার পর গরম পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়। এটি গ্যাস, অম্বল ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। গরম পানি খাদ্যনালীতে জমে থাকা তেল ও চর্বি গলিয়ে দিয়ে হজম সহজ করে তোলে। ফলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং পেটের অস্বস্তি কমে যায়।

গরম পানি পান করলে দেহে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। এটি রক্তনালীকে প্রসারিত করে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ভালো রক্ত সঞ্চালন শরীরের প্রতিটি কোষে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা। প্রতিদিন সকালে হালকা গরম পানি পান করলে এই সমস্যা দূর হয়। গরম পানি পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং মলত্যাগ সহজ করে তোলে। এতে পেটের সমস্যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী মুক্তি পাওয়া যায়।

শীতকালে শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করার কোনো বিকল্প নেই। ঠান্ডা পানি পান করতে না চাইলে হালকা গরম পানি পান করুন। এটি আপনার শরীরকে সুস্থ, সক্রিয় এবং রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করবে।

Link copied!