ট্রাম্পের পাশে নাটালি হার্পকে ঘিরে জল্পনা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ১১:০৮ এএম
ট্রাম্পের পাশে নাটালি হার্পকে ঘিরে জল্পনা

ট্রাম্পের পাশে নাটালি হার্পকে ঘিরে জল্পনা
ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে নিয়মিত দেখা যাওয়া ৩৫ বছর বয়সী নাটালি হার্প। ট্রাম্পের নির্বাহী সহকারী তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি, সফর ও রাজনৈতিক আয়োজনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার দৃশ্যমান উপস্থিতি যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের তুলনামূলক অনুপস্থিতি নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। তবে হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

গত কয়েক সপ্তাহে রাজনৈতিক সভা, সরকারি কর্মসূচি ও বিভিন্ন সফরে ট্রাম্পকে সক্রিয় দেখা গেলেও এসব আয়োজনে মেলানিয়ার উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। প্রায় এক মাস ধরে বড় কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাকে দেখা না যাওয়ায় ওয়াশিংটনে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে মেলানিয়ার ব্যক্তিগত সময় কাটানো এবং নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় থাকা নতুন কোনো বিষয় নয়। তার ছেলে ব্যারনও পড়াশোনা করছেন নিউইয়র্কে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের উপস্থিতি দিন দিন হচ্ছে আরও দৃশ্যমান। জুলাইয়ে তুরস্ক সফর শেষে ট্রাম্পের ফেরার সময় বিশেষ সামরিক বিমানে থাকা সীমিতসংখ্যক সহযোগীর মধ্যেও তার উপস্থিতির কথা সামনে আসে। সরকারি অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্টের সফর ও দৈনন্দিন কর্মপরিসরের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাম্পের কাছাকাছি দেখা যাচ্ছে তাকে।

হার্পের গুরুত্ব শুধু প্রেসিডেন্টের নির্বাহী সহকারী হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। ট্রাম্পের কাছে বিভিন্ন সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং অন্যান্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে ট্রাম্পের প্রশাসনিক বলয়ে তাকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ ও ‘গেটকিপার’-এর মতো অভিধায়ও বর্ণনা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হার্পের পরিচয় অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের ‘রাইট টু ট্রাই’ উদ্যোগের প্রশংসা করে জাতীয় পর্যায়ে তার পরিচিতি তৈরি হয়। পরে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক দলে যুক্ত হন। ২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে নির্বাহী সহকারী হিসেবে তার অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে হার্পকে ঘিরে আলোচনা আরও তীব্র হয়। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জীবন ও হার্পের ঘনিষ্ঠ উপস্থিতি নিয়ে তার মন্তব্যের পর ট্রাম্পপন্থী মহলে দেখা যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া। ট্রাম্পের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউংও অবস্থান নেন হার্পের পক্ষে।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলানিয়ার অনুপস্থিতি এবং হার্পের উপস্থিতিকে পাশাপাশি রেখে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও মেলানিয়া ও হার্পের মধ্যে টানাপোড়েনের দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

বরং মেলানিয়া আগেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, জনসমক্ষে কতবার দেখা গেল তার চেয়ে নিজের দায়িত্ব ও কাজের ফলাফলকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। ফলে তার সাম্প্রতিক অনুপস্থিতিকে সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ নেই।

তবে হার্পকে ঘিরে আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রেসিডেন্টের কাছে কারা সরাসরি পৌঁছাতে পারছেন, কোন তথ্য তার কাছে যাচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তার চারপাশে কোন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি সময় থাকছেন। ক্ষমতার কেন্দ্র ওয়াশিংটনে এসব প্রশ্ন বরাবরই রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

সেখানেই মেলানিয়া ও হার্প প্রসঙ্গটি পেয়েছে আলাদা মাত্রা। একজনের দৃশ্যমানতা বাড়ছে, অন্যজনের প্রকাশ্য উপস্থিতি কমেছে। এই দুই বাস্তবতাকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে নানা আলোচনা। তবে বাস্তব ঘটনা আর রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যে পার্থক্য করাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

মেলানিয়া কেন সাম্প্রতিক সময়ে কম প্রকাশ্যে আসছেন, তা নিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একইভাবে হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কোনো অভিযোগ সত্য প্রমাণ করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্যও নেই।
 

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!