ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক থেকে আপাতত রেহাই কানাডার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক থেকে আপাতত রেহাই কানাডার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন কানাডার রপ্তানিকারকরা। শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে একটি বাণিজ্য সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে কানাডার পণ্যে বড় ধরনের শুল্ক আরোপ থেকে আপাতত পিছিয়ে গেল ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এ ঘোষণা দেন।

এর কিছুক্ষণ পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ ২২ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করতে রাজি হয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প ও কার্নির মধ্যে বৈঠকের পর এই সমঝোতা হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। এতে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় থাকা কানাডীয় রপ্তানিকারকেরা আশার আলো দেখলেন।

নতুন শুল্ক কার্যকর হলে কানাডার প্রায় ২০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে এর প্রভাব পড়ত। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক পণ্য, শিল্পযন্ত্র, আসবাব, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ ছিল।

মঙ্গলবার নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চূড়ান্ত হওয়ার পরই তা কার্যকর হবে। এ কারণে শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

তবে সমঝোতার বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প বা কার্নি।

ট্রাম্পের বক্তব্যে অবশ্য কানাডার সঙ্গে কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন প্রকল্পের বিষয়টি উঠে এসেছে।

কানাডার আলবার্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কায় প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের কথা ছিল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে।

২০০৮ সালে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছিল। এরপর পরিবেশগত উদ্বেগ ও নানা বিরোধিতার কারণে এটি বারবার পিছিয়েছে। ২০২১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পাইপলাইনের যুক্তরাষ্ট্র অংশের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুমোদন বাতিল করেন। এতে প্রকল্পটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘বহু বছর আগে স্লিপি জো বাইডেন যে কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইনকে কবর দিয়েছিলেন, সেটি হয়তো আবার জেগে উঠতে পারে।’

কার্নি বলেছেন, আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

তিনি বলেছেন, আলোচনা চলার পাশাপাশি কানাডা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, স্বাধীন ও প্রতিযোগিতামূলক করার দিকে নজর দেবে।

শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন কানাডার রপ্তানিকারকেরা। কারণ যুক্তরাষ্ট্রই কানাডার সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার।

কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশ যায় কানাডায়।

হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প কানাডার ওপর একের পর এক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে এবারের শুল্ক ছিল কিছুটা ভিন্ন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত থাকা পণ্যের ওপরও এটি আরোপের কথা ছিল।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে করা এই ত্রিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন ছাড়ের কারণে এত দিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অধিকাংশ বাণিজ্য শুল্কমুক্ত ছিল।

সূত্র : আলজাজিরা
 

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!