রাষ্ট্রপতি ভোট ‘ঐতিহাসিক’, বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে: সিইসি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
রাষ্ট্রপতি ভোট ‘ঐতিহাসিক’, বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে: সিইসি

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ১৯৯১ সালের পর প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন, সব মিলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
নির্বাচন ভবনে বুধবার(১৯ আগস্ট) নিজের কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “সার্বিক বিবেচনায় এটা তো ঐতিহাসিক তো বটেই। বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে, বড়ই বটে।
“আমরা কনফিডেন্ট, ইনশাআল্লাহ একটা সুন্দর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। বাংলাদেশে যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে, বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে। বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে, বললাম কেন- আমাদের একটা অভ্যুত্থান হয়ে গেল। চব্বিশের অগাস্টে যেটা কন্ট্রোল হল এবং একজন রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষের আগে পদত্যাগ করলেন।
“মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সুতরাং এখানে কে রাষ্ট্রপতি হবেন, এটা সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে। যদি রিজাইন না করতেন (সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন), উনি নরমাল টার্মিং শেষ করে যেতেন, ন্যাচারাল কোর্সে যেতেন, তাহলে হয়ত মানুষ আগ্রহ দেখাত না।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাস তুলে ধরে সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আর এমন নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘদিন পর এমন নির্বাচন হওয়ায় ইসির প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের লোকজন তো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে অভ্যস্ত না। সংসদ সচিবালয় যেখানে ডিপলি ইনভলভ থাকে, উনারাও এই ধরনের কার্যক্রম করে অভ্যস্ত না। কিছুটা ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি, কিছুটা শর্টেজ আছে। তবে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা যত রকমের এক্সারসাইজ সম্ভব এবং সেটা করেছি। পুরা প্রক্রিয়াটার মধ্যে যাতে কোনো গ্যাপ না হয়, সেই ব্যবস্থাটা আমরা করেছি।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় ১৯৯১ সালের আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও তথ্য দেন নির্বাচনি কর্তা এম নাসির উদ্দিন।
এর আগে সিইসি ও নির্বাচনি কর্তা গত ১১ অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের বৈঠক আহ্বান করে নোটিশ জারি করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৫(৩)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং স্পিকারের সঙ্গে আলোচনাক্রমে এ বৈঠক আহ্বান করা হয়। কারণ আইন অনুযায়ী নির্বাচনের অন্তত সাত দিন আগে এ গেজেট প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এরইমধ্যে কমিশন ভোটার তালিকা ও নির্বাচনের তফসিলও প্রকাশ করেছে। তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়, ১৬ আগস্ট তা যাচাই-বাছাই করা হয় এবং ১৮ অগাস্ট ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।
এর মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দুটি এবং বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। সর্বশেষ বৈধ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ।
নির্বাচনি কর্তা বলেন, “প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় ব্যবহৃত রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। আমরা তিনটা বৈধ মনোনয়ন পেয়েছি। ১১ দলীয় ঐক্যের দুইটাও বৈধ এবং বিএনপির মনোনয়নটাও বৈধ। ১৮ অগাস্ট পর্যন্ত কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।”
ভোট গ্রহণের প্রস্তুতিতে এরইমধ্যে সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে তথ্য দিয়ে সিইসি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের যারা অধিবেশন চলাকালে ফ্লোরের দায়িত্ব পালন করেন, তাদেরও সহযোগিতা নেওয়া হবে।”
সংসদ ভবনের আসন বিন্যাস সংসদীয় আসনের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী নয় বলে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতিতে বিভক্তি নম্বর ধরে আলাদা করে কাজ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার সময় তা সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, “সম্ভবত বিটিভির মাধ্যমে ভোটের শুরুতে এ অংশ সরাসরি দেখানো হবে। ভোট গ্রহণ চলাকালে সম্প্রচার বন্ধ থাকার পর বিকাল ৫টায় ভোট গণনা শুরু হলে আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। ভোটার সংসদ সদস্যরা ভোট দেওয়ার পরও গণনার সময় সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকতে পারবেন।”
ভোট গ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা শুরু হবে এবং সেখানেই নির্বাচনি কর্তা হিসেবে তিনি ফল ঘোষণা করবেন বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, “কতটি ব্যালট ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন সব বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। এরপর নির্বাচনী ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।”
ভোটের দিন সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো প্রচার-প্রচারণা করা যাবে না বলে জানান সিইসি। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার বিষয়ে আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

Link copied!