বাংলাদেশের এক মাসের  জিডিপির চেয়েও বেশি অর্থ হারালেন ইলন মাস্ক


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
বাংলাদেশের এক মাসের  জিডিপির চেয়েও বেশি অর্থ হারালেন ইলন মাস্ক


মাত্র এক মাসে বাংলাদেশের মোট জিডিপির চেয়েও বেশি সম্পদ হারিয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। স্পেসএক্সের শেয়ারের বড় দরপতনে তার সম্পদ কমেছে ৫৮৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তবে এত বড় ধাক্কার পরও বিশ্বের শীর্ষ ধনীর আসন এখনো তারই দখলে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার প্রায় ৫১০ বিলিয়ন ডলার।
ফোর্বসের হিসাবে তার সম্পদের পরিমাণ এখনো ৮৬৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম রেকর্ড উচ্চতা থেকে নেমে এসেছে প্রায় ৪০ শতাংশে।
বিশ্লেষকদের আশা, শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াতে পারে স্পেসএক্স।
মঙ্গলবার নাসডাকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ১৪২ দশমিক ৫০ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি। তবে সোমবার শেয়ারটি সর্বনিম্ন ১৩৬ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার ফল। কোম্পানির মৌলিক ব্যবসায়িক অবস্থানে বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত নয়।
জুনে স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক হয়। কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১৩৫ ডলার। তালিকাভুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই শেয়ারের দাম বেড়ে ২২৫ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছে যায়। তখন বাজারমূল্যের হিসাবে স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত হয়।
আইপিওর নথি অনুযায়ী, ইলন মাস্কের কাছে স্পেসএক্সের ৪৮০ কোটি শেয়ার রয়েছে, যা কোম্পানির প্রায় ৪২ শতাংশ মালিকানার সমান। ফলে শেয়ারের দামে প্রতি ১ ডলার ওঠানামায় তার কাগজে কলমে সম্পদের মূল্য প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পরিবর্তিত হয়।
শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৮৪ ডলার কমে যাওয়ায় শুধু স্পেসএক্সে মাস্কের অংশীদারির মূল্য থেকেই কমে গেছে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে টেসলা শেয়ারের মূল্যায়ন থেকেও ১১৬ বিলিয়ন ডলার কমিয়েছে ফোর্বস। ফলে বর্তমানে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮৬৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
গত চার সপ্তাহে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি কমে নেমেছে প্রায় ১ দশমিক ৮৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। নাসডাক-১০০ সূচকে দ্রুত অন্তর্ভুক্তি এবং ওয়াল স্ট্রিটে ইতিবাচক মূল্যায়ন সত্ত্বেও অব্যাহত রয়েছে শেয়ার বিক্রির চাপ।

আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে স্পেসএক্স?
ওয়াল স্ট্রিটের বেশির ভাগ বিশ্লেষকের বিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদে স্পেসএক্সের শেয়ার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তাদের মতে, এটি আইপিও-পরবর্তী অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসের পর স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন। কোম্পানির ব্যবসায়িক ভিত্তি এখনো শক্তিশালী।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এভারকোর আইএসআই মঙ্গলবার স্পেসএক্সের জন্য ‘আউটপারফর্ম’ রেটিং দিয়ে মূল্যলক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ২৩০ ডলার। বর্তমান দামের তুলনায় এটি প্রায় ৬৫ শতাংশ সম্ভাব্য ঊর্ধ্বগতির ইঙ্গিত দেয়।
ঐতিহাসিক আইপিওর ইস্যু মূল্যের চেয়ে এখন সামান্য ওপরে রয়েছে স্পেসএক্সের শেয়ারের দর
ঐতিহাসিক আইপিওর ইস্যু মূল্যের চেয়ে এখন সামান্য ওপরে রয়েছে স্পেসএক্সের শেয়ারের দর
প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সাল পর্যন্ত কোম্পানির বার্ষিক আয় গড়ে ১০৬ শতাংশ হারে বাড়তে পারে এবং মুনাফার হার ৩৫ শতাংশ থেকে পৌঁছাতে পারে ৬৯ শতাংশে।
এভারকোর আইএসআইয়ের বিশ্লেষক কুতগুন মারাল তার প্রতিবেদনে লিখেছেন, মানবজাতির ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এমন অসাধারণ একটি প্রতিষ্ঠান হলো স্পেসএক্স। উৎক্ষেপণ সক্ষমতার ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া অবস্থান রয়েছে কোম্পানিটির।

শেয়ার কমলেও থেমে নেই কার্যক্রম
শেয়ারের দর কমলেও স্বাভাবিক রয়েছে স্পেসএক্সের কার্যক্রম। সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ ঘাঁটি থেকে আরও ২৭টি স্টারলিংক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার স্টারশিপের ১৩তম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রথমবারের মতো ২০টি কার্যকর স্টারলিংক ভি৩ উপগ্রহ বহন করা হবে। স্পেসনিউজের তথ্য অনুযায়ী, এ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে প্রতি সেকেন্ডে ৬০ টেরাবিট অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত হবে, যা একটি ফ্যালকন-৯ উৎক্ষেপণের তুলনায় ২০ গুণেরও বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মিশন সফল হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে পারে। তবে উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হলে শেয়ারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

১৪০ ডলারের নিচে নেমেছে শেয়ার
সোমবার স্পেসএক্সের শেয়ার প্রথমবারের মতো ১৪০ ডলারের নিচে নেমে যায়। দিনের একপর্যায়ে এর দাম ১৩৭ ডলারেরও নিচে নেমেছিল। শেষ পর্যন্ত শেয়ারটি ৪ শতাংশের বেশি দর হারিয়ে প্রায় ১৩৯ ডলারে লেনদেন শেষ করে।
জুনে বাজারে আসার পর প্রথম দিন শেয়ারটির লেনদেন শুরু হয়েছিল ১৫০ ডলারে। কয়েক দিনের মধ্যেই তা ২২৫ ডলারের বেশি উঠে যায়। তখন কোম্পানির বাজারমূল্য প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল এবং অল্প সময়ের জন্য মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদেরও ছাড়িয়ে যায়।
বর্তমানে বাজারমূল্য কমে প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবু খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ পুরোপুরি কমেনি। ভান্ডা রিসার্চ জানিয়েছে, তারা এখনো স্পেসএক্সের শেয়ারের নিট ক্রেতা। একই সঙ্গে ক্যাথি উডের আর্ক ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টও গত সপ্তাহে স্পেসএক্সের শেয়ার কিনেছে।

ইতিহাস কী বলছে?
বিশ্লেষকদের মতে, আইপিওর পর বড় ধরনের দরপতনের ঘটনা নতুন নয়। ২০১২ সালে শেয়ারবাজারে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই ফেসবুকের শেয়ার আইপিও মূল্যের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি পড়ে গিয়েছিল। তবে প্রায় ১৫ মাসের মধ্যে কোম্পানিটি সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়।
একইভাবে স্পেসএক্সও দীর্ঘমেয়াদে ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে উচ্চ মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঝুঁকি স্বল্পমেয়াদে শেয়ারের ঊর্ধ্বগতি সীমিত রাখতে পারে।

Link copied!