গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে এমবাপ্পে


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে এমবাপ্পে

চলতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। পাশাপাশি ব্যক্তিগত লড়াইয়ে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত এক গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের অষ্টম গোলটি তুলে নেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এর ফলে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের সমান ৮ গোল হলেও, ফিফার বিশেষ টাইব্রেকার সমীকরণে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এই মুহূর্তে শীর্ষস্থানটি নিজের করে নিয়েছেন এমবাপ্পে।

ফিফার অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আসর শেষে যদি দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হয়, তবে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ নির্ধারণে প্রথম টাইব্রেকার হিসেবে বিবেচনা করা হয় অ্যাসিস্ট। এই অ্যাসিস্টের মারপ্যাঁচেই মেসির চেয়ে এগিয়ে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক। চলতি টুর্নামেন্টে এমবাপ্পে সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ৩টি (সর্বশেষ মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে উসমান দেম্বেলের করা গোলটিতে)। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির নামের পাশে অ্যাসিস্ট রয়েছে মাত্র ১টি।

গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে কর্নার থেকে আসা যে গোলটিতে মেসির অবদান ছিল, সেটি অফিশিয়ালি আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য হওয়ায় তা মেসির অ্যাসিস্ট হিসেবে গণ্য হয়নি। ৩-১ অ্যাসিস্টের ব্যবধানেই মেসিকে দুইয়ে ঠেলে আপাতত চূড়ায় এমবাপ্পে। ফিফার নিয়ম এখানেই শেষ নয়। যদি টুর্নামেন্ট শেষে গোল এবং অ্যাসিস্ট—দুটিই সমান থাকে, তবে গোল্ডেন বুট কার হাতে উঠবে? সেখানে রয়েছে দ্বিতীয় আরেকটি সমীকরণ। নিয়মানুযায়ী, গোল ও অ্যাসিস্ট সমান হলে যে খেলোয়াড় মাঠে সবচেয়ে কম সময় (মিনিট) খেলেছেন, তিনিই পাবেন এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।
মিনিটের এই হিসেবে অবশ্য মেসির চেয়ে পিছিয়ে আছেন ফরাসি তারকা। এখন পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পে মাঠে কাটিয়েছেন মোট ৫৬৪ মিনিট, যেখানে লিওনেল মেসি খেলেছেন ৪৬৫ মিনিট। ফলে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে মেসি যদি অ্যাসিস্টের সংখ্যায় এমবাপ্পেকে ছুঁয়ে ফেলতে পারেন, তবে কম সময় খেলার সুবাদে গোল্ডেন বুট চলে যাবে আর্জেন্টাইন জাদুকরের ঝুলিতেই।
এমবাপ্পে ও মেসির এই দ্বৈরথের মধ্যেই গোল্ডেন বুটের রেসে দারুণভাবে টিকে আছেন আরও কয়েকজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকার। ৭ গোল নিয়ে ঠিক পেছনেই ওঁত পেতে আছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। আর ৬ গোল নিয়ে হ্যারি কেইনও যেকোনো মুহূর্তে পাশা উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বিশ্বকাপের মহোৎসব যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ট্রফি জয়ের পাশাপাশি বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারদের এই গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইও ততটাই রোমাঞ্চকর হয়ে উঠছে।
 

Link copied!