যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কর্মীকে ১৫ বারের বেশি ছুরিকাঘাত


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কর্মীকে ১৫ বারের বেশি ছুরিকাঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি শপিংমলে ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে এক মুসলিম কর্মীকে ১৫ বারের বেশি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। পুলিশি নথির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি ওই মুসলিম কর্মীকে ‘তার ধর্মের কারণে’ হত্যা করতে চেয়েছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সল্ট লেক ট্রিবিউন জানায়, সোমবার ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ভ্যালি ফেয়ার মলের একটি কিয়স্কে কর্মরত সোহাইল নামের ওই মুসলিম কর্মীর কাছে ৪৮ বছর বয়সি এক ব্যক্তি এগিয়ে যান। প্রথমে তিনি সোহাইলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন করেন এবং তার নাম ও ধর্ম সম্পর্কে জানতে চান।

এরপর সোহাইল পানির বোতল আনতে ঘুরে দাঁড়ালে অভিযুক্ত ব্যক্তি আচমকা ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালান। উটাহ ইসলামিক সেন্টারের ইমাম শুয়াইব দিন, যিনি ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কেটিইউভির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের নাম পিটার লারসেন। ঘটনার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তি হামলাকারীকে ধরে ফেলেন, মাটিতে চেপে রাখেন এবং তার হাত থেকে ছুরি কেড়ে নেন।

হামলায় গুরুতর আহত সোহাইলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার হাত, হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে বলে তার পরিবারের সহায়তায় খোলা একটি তহবিল সংগ্রহের পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে সল্ট লেক কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ বলেন, মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য বাস্তব জীবনে ভয়াবহ সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানান।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষমূলক আচরণের ৮ হাজার ৬৮৩টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে, যা ১৯৯৬ সালে এ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। উটাহ মুসলিম সিভিক লীগও এ ঘটনাকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হামলাকারীকে আটক করতে এগিয়ে আসা সাধারণ মানুষের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে।

Link copied!