ইরাক থেকে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ইরাক থেকে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা

ইরাক থেকে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সব সেনা সরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন সফরে থাকা ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এ তথ্য জানিয়েছেন।

২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানে সাদ্দাম সরকারের পতন হলেও দেশটিতে থেকে যায় মার্কিন সেনারা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।


ইরানে নৌ অবরোধ ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র, জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি হোয়াইট হাউসে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইএসবিরোধী অভিযান শেষ করার লক্ষ্যে ইরাকের সঙ্গে ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। ওই চুক্তির সময় ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।

ট্রাম্প ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা মনে করি না সেখানে (ইরাক) আমাদের সামরিক বাহিনী রাখার আর প্রয়োজন আছে।”

এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরাক ছেড়ে আসবে। তবে মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।”

এর আগে আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেও ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা হয়েছে। রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসেও কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ এসব হামলার দায় স্বীকার করেছিল।

সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

Link copied!