আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে চরম নাটকীয়তা আর আম্পায়ারিং বিতর্কের শিকার হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল মিসরকে। তবে মাঠের সেই আক্ষেপ দূরে সরিয়ে একটি ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিযানের পুরস্কার পেলেন দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসান। নকআউট পর্বে দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে তার সঙ্গে চুক্তি নবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে মিসরীয় ফুটবল ফেডারেশন (ইএফএ)।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই মিসরের সর্বকালের সেরা সাফল্য। চারবার বিশ্বমঞ্চে অংশ নিয়ে এর আগে কখনোই গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি ফারাওরা। হোসাম হাসানের হাত ধরে সেই বৃত্ত ভাঙায় তার ওপরই আস্থা বজায় রাখল দেশের ফুটবল বোর্ড। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কোচ হোসাম হাসান এবং দলের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানের চুক্তি নবায়নের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার মিসর ফুটবল দলের কায়রোতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কোচের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ও আর্থিক অঙ্কের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রজেক্টের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মিসরীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হানি আবু রিদা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জাতীয় দলের টেকনিক্যাল প্রজেক্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং সাম্প্রতিক সময়ে মিসরীয় ফুটবলের ঐতিহাসিক সাফল্যকে আরও সামনে এগিয়ে নিতেই বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে হোসাম হাসানের চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের প্রতিনিধিদল দেশে ফেরার পরপরই আগামী সভায় চুক্তির আনুষ্ঠানিক নথিপত্র চূড়ান্ত করা হবে।’
উল্লেখ্য, আটলান্টার সেই ম্যাচে একপর্যায়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে রূপকথার জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল মিসর। কিন্তু এরপরই ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মিসরের একটি বৈধ গোল বাতিল করা হয়। শেষদিকে মেসির জাদুতে ম্যাচে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। তবে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দুটি ফাউলের অভিযোগ উঠলেও রেফারি কর্ণপাত করেননি। এমন প্রশ্নবিদ্ধ রেফারিংয়ের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে মিসর।
বেদনাদায়ক বিদায় সত্ত্বেও এই দলটিকে নিয়ে গর্ব করতেই পারে নীল নদের দেশটি। এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিলেও প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। এবার শেষ ষোলোতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বুক কাঁপিয়ে দিয়ে যেভাবে তারা লড়াই করেছে, তা মিসরীয় ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আর সেই নতুন দিগন্তের কাণ্ডারি হিসেবে হোসাম হাসানের থেকে যাওয়াই এখন মিসরের ফুটবলের নতুন শক্তি।
































