১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার ত্রাস ছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠী তামিল টাইগার তথা লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলাম (এলটিটিই)। দেশটির উত্তর ও পূর্বের এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্বাধীন তামিল রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টায় দীর্ঘদিন গেরিলা যুদ্ধ চালায় বিদ্রোহীরা। অবশেষে ২০০৯ সালে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয় এই গোষ্ঠীকে।
তবে শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বিদ্রোহী দলগুলো। শ্রীলঙ্কায় আক্রমণ শুরু করার জন্য পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে তামিল টাইগার্স। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
দ্বীপরাষ্ট্রটিতে সরকার পতনের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে তামিল টাইগারদেরও মদদ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি ২০০৯ সালের ১৮ মে মুল্লিভাইকাল জেলায় তামিল টাইগার নির্মূলে সামরিক বাহিনীর পরিচালিত গণহত্যার বার্ষিকী উপলক্ষে এই গোষ্ঠীটি হামলার পরিকল্পনা করে থাকতে পারে বলেও সতর্ক করেছে গোয়েন্দারা। জাতিগত সংঘাতের নিহত তামিল নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণসহ অন্যান্যদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যে বিদ্রোহীরা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগাতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের। স্থানীয় গণমাধ্যম সিলন টুডের খবরে এসব তথ্য জানা গেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে শ্রীলঙ্কায় হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ভারতের তামিলনাড়ুতে থেকেও বিদ্রোহীরা দেশটির উপকূলে প্রবেশের চেষ্টা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই উপকূলীয় জেলাগুলোর ১ হাজার কিলোমিটার উপকূলরেখা বরাবর নজরদারি বাড়িয়েছে শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা বাহিনী। সমুদ্রের জেলেদেরও হামলার ঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।
ভারতের তামিলনাড়ুতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্দেহভাজন তামিল বিদ্রোহীদের নানা কার্যকলাপের খবর পাওয়া গেছে। গত বছর ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তামিল টাইগারদের গোয়েন্দা শাখার একজন সাবেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কায় মাদক পাচার ও তামিল টাইগারকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তহবিল সংগ্রহে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
এছাড়াও সেসময় চেন্নাই বিমানবন্দরে একজন নারীকেও তামিল টাইগারদের জন্য অর্থা সংগ্রহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর পরই তামিল টাইগারদের পুনর্গঠিত হওয়ার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কায়।







































