ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে কিছু তথ্য


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৪, ০৭:১৭ পিএম
ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে কিছু তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব অনেক আগে থেকে। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। এবারও ডেঙ্গু প্রকোপ বাড়ছে। ডেঙ্গু মোটেও সাধারণ কোনো অসুখ নয়। প্রতি বছর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। যার কারণে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে। তাই ডেঙ্গ জ্বর সম্পর্কে জেনে নিন কিছু তথ্য-

  • সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেবার পর আবারো জ্বর আসতে পারে।
  • অনেক সময় জ্বরের সঙ্গে ব্যথা মাথাব্যথা, চেখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ (র‍্যাশ) হতে পারে। আবার নাও হতে পারে।
  • তবে ডেঙ্গ জ্বর হলে বিশ্রামে থাকতে হবে। ছোটাছুটি বা ভারি কাজ না করে পরিপূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন।
  • জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান।
  • ডেঙ্গু জ্বরের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • এসময় প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে, পানি জাতীয় খাবার যেমন - ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন গ্রহণ করতে হবে।
  • জ্বর প্রথম দিন থেকেই জটিল আকার মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নয়তো বাড়িতে তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন। তিন দিনে জ্বর না কমলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। নিজে দোকান থেকে কিনে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাবেন না, হিতে বিপরীত হতে পারে।
  • ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। তবে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কিন্তু ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে। তাই শরীরে ব্যাথা হলেও অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করা যাবে না।
  • ডেঙ্গু জ্বর হলেই বা অনুচক্রিকা কমে গেলেই রোগীকে রক্ত বা প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয়—এমন ধারণার ভিত্তি নেই। বিষয়টি চিকিৎসকের উপর ছেড়ে দেয়াই ভালো।
  • ডেঙ্গু জ্বরের  ‍‍`এ‍‍`, ‍‍`বি‍‍` এবং ‍‍`সি‍‍` এই তিনটি ভাগ রয়েছে। এ ক্যাটাগরি রোগীর শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী ‍‍`এ‍‍` ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হবার কোন প্রয়োজন নেই। বি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের সবই স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হওয়াই ভালো। তবে সি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ‍‍`র প্রয়োজন হতে পারে।

তবে মনে রাখা উচিত, এ সময়ের জ্বর মানেই কেবল ডেঙ্গু নয়। অন্যান্য ভাইরাস জ্বর ছাড়াও পানিবাহিত টাইফয়েড জ্বরও হচ্ছে। তাই জ্বর হলে লক্ষণ-উপসর্গ মিলিয়ে ও প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েই চিকিৎসা নেওয়া ভালো।

Link copied!