যেকোনো বয়সেই সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। তবে বয়স চল্লিশের পর এই দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত। পুষ্টিবিদদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ জীবনযাত্রা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। চলুন জেনে নিই চল্লিশের পরে সুস্থ থাকতে কী কী অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
পুষ্টিকর খাবার
চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও পরিশোধিত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি গ্রহণের মাত্রা কমানো, পরিবর্তে আঁশ ও প্রোটিন ধরনের খাবার বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।ফল, সবজি, গোটা শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি খাবার তালিকায় যুক্ত করতে হবে। এতে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়।
দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা
বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সঠিক নিয়মে খাবার খাওয়া উচিত। সারা দিনে তিন বেলা সুষম খাবার খাওয়া ও নিয়মিত বিরতিতে স্বাস্থ্যকর নাশতা গ্রহণের অভ্যাস থাকতে হবে। এক বেলা খাবার বিরতি বা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ঝুঁকি কমে।
প্রক্রিয়াজাত খাবার
পুষ্টিবিদ বলছেন, প্রক্রিয়াজাত ও মোড়কজাত খাবারে বাড়তি চিনি, অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও সোডিয়াম যুক্ত থাকে। তাই যতটা সম্ভব এসব খাবার কম খাওয়া উচিত। অপ্রক্রিয়াজত খাবারে প্রাকৃতিকভাবেই চিনি কম ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ বেশি থাকে।
পরিমিত খাওয়া
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপাক হার কমে তাই পরিমিত খাবার গ্রহণ করা উচিত। ছোট প্লেট ও বাটিতে খাবার খাওয়া চোখে বিভ্রম সৃষ্টির মাধ্যমে পরিমিত খাবার গ্রহণে সহায়তা করে। খাবার গ্রহণ করতে হবে দেহের চাহিদা অনুযায়ী। ক্ষুধা মেটা পর্যন্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত, এর বেশি নয়।
আর্দ্র থাকা
হজমক্রিয়া, দেহের তাপমাত্রা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সঠিক আর্দ্রতা রক্ষা করা প্রয়োজন। সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান না করার পাশাপাশি মিষ্টিজাতীয় পানীয় সোডা ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান করার ফলে দেহে পানিশূন্যতার সমস্যা বাড়ায়, যা স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখে।
নিয়মিত শরীরচর্চা করা
সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট হালকা মাত্রায় শরীরচর্চা করা উচিত। অ্যারোবিক ব্যায়াম (দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটা) ও শক্তি বর্ধক প্রশিক্ষণ এ ক্ষেত্রে উপকারী। সুস্থ থাকতে প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা ব্যক্তিগত প্রশিক্ষকের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ চল্লিশের পরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান, গভীর শ্বাস অনুশীলন, যোগাসন বা মানসিক প্রশান্তি দেয় এমন কাজে ব্যস্ত থাকা উপকারী। সুস্থ থাকার জন্য মনের পরিচর্যা করা জরুরি।
সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ইতিবাচক জীবনযাত্রা চল্লিশ পেরোলেও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আনা দরকার জরুরি।






































