পুরুষদের ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি হওয়ার কারণ কী?


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
পুরুষদের ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি হওয়ার কারণ কী?

শরীরের কোষগুলোর অস্বাভাবিক ও লাগামহীন বৃদ্ধিই ক্যানসার। ফুসফুসের ক্যানসারে ফুসফুসের টিস্যুতে অস্বাভাবিক কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায় এবং টিউমার তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, ফুসফুসের ক্যানসার বিশ্বব্যাপী ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ।

পুরুষের ক্যানসারের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারই অন্যতম। নারীদের তুলনায় পুরুষদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার ও মৃত্যুঝুঁকি বেশি। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর এই ক্যানসারের প্রায় ২৫ লাখ নতুন রোগী শনাক্ত হন, প্রাণ হারান প্রায় ১৮ লাখ মানুষ। বাংলাদেশে বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১৭-১৮ শতাংশই ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছেন।

কারণ কী

ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে বড় কারণ সিগারেট, বিড়ি বা তামাক সেবন।

ধূমপান না করেও যাঁরা নিয়মিত ধূমপায়ীদের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন, তাঁদেরও ঝুঁকি থাকে।

বায়ুদূষণ, রেডন গ্যাস, অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে আসা।

বংশগত কারণেও ফুসফুসের ক্যানসার হতে পারে।


ফুসফুস ক্যানসারের উপসর্গ কী
প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। পরে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে—

* একটানা কাশি, যা সহজে ভালো হয় না এবং দিন দিন বাড়তে থাকে।

* কাশির সঙ্গে রক্ত বা কফ পড়া।

* শ্বাসকষ্ট বা বুকে শোঁ শোঁ শব্দ।

* বুক, পিঠ বা কাঁধে ব্যথা।

* ঘন ঘন বুকে ইনফেকশন (নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিস) হওয়া।

* কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।

* প্রচণ্ড ক্লান্তি ও দুর্বলতা।

ফুসফুস ক্যানসারের ধরন
দুই প্রকারের ফুসফুস ক্যানসার দেখা যায়।

নন স্মল সেল: প্রায় ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রে রোগীর নন স্মল সেলই দেখা যায়। এই প্রকারের ক্যানসার তুলনামূলক ধীরে বৃদ্ধি পায়।

স্মল সেল: এটি দ্রুত বাড়ে এবং সাধারণত ধূমপায়ীদের মধ্যে এই ফুসফুস ক্যানসার বেশি দেখা যায়।

ক্যানসার নির্ণয়
ক্যানসার সঠিকভাবে নির্ণয় করতে দরকার হয় রোগীর সম্পূর্ণ ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষা। কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষার দরকার হয়। যেমন কফ পরীক্ষা, বুকের এক্স–রে, বুকের সিটি স্ক্যান। বিশেষায়িত পরীক্ষার মধ্যে প্যাট স্ক্যান, ব্রঙ্কোসকপি, বায়োপসি, রক্তের টিউমার মার্কার ইত্যাদি করা হয়।

চিকিৎসা কী
বিকিরণ থেরাপি: সাধারণত একটি রৈখিক অ্যাক্সিলারেটরের মাধ্যমে ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে উচ্চশক্তিসম্পন্ন বিকিরণ রশ্মি দেওয়া হয়।

কেমোথেরাপি: ক্যানসারের কোষকে ধ্বংস করার জন্য ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধের পরামর্শ দেওয়া হয়।

টার্গেট থেরাপি: রেডিওইমিউনোলজিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যালের লক্ষ্যযুক্ত ডেলিভারি, যা ক্যানসার কোষের ওপর কাজ করে এবং বেছে বেছে তাদের ধ্বংস করে।

জৈবিক থেরাপি: ক্যানসার প্রতিরোধক টিকা, যা বেছে বেছে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে।

প্রতিরোধ
প্রত্যক্ষ ধূমপান বর্জন এবং পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলা।

বায়ুদূষণ এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক বা গ্যাস থেকে দূরে থাকা।

স্বাস্থ্যকর তথা পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ।

নিয়মিত ব্যায়াম।

শেষ কথা
ফুসফুসের ক্যানসার একটি জটিল রোগ। এর চিকিৎসা কঠিন ও ব্যয়বহুল। শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে শুধু ধূমপান এই রোগের ক্ষেত্রে দায়ী অর্থাৎ এটি প্রতিরোধযোগ্য। ধূমপান পরিহার করে, নিয়মিত পরীক্ষা (স্ক্রিনিং) করে, সন্দেহজনক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার মাধ্যমেই আমরা এ রোগের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত থাকতে পারি।

Link copied!