• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১, ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫
বিশ্ব মশা দিবস

মশাবাহিত ভয়াবহ যত রোগ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২১, ০২:৪৭ পিএম
মশাবাহিত ভয়াবহ যত রোগ

২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস বা বিশ্ব মশক দিবস। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়। চিকিৎসক রোনাল্ড রসের আবিষ্কারকে সম্মান জানানোর জন্যই দিবসটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।

১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট চিকিৎসক রোনাল্ড রস অ্যানোফিলিস মশাবাহিত ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কার করেন। পরে এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ‘নোবেল’ পুরস্কার পান।

১৯৩০ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন দিবসটি প্রথম পালন করা করে।

মশা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘শূন্য ম্যালেরিয়া লক্ষ্যে পৌঁছানো’। মশাবাহিত বিভিন্ন ভয়াবহ রোগের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসাধারণকে  সচেতন করাই এই দিবসের মূল লক্ষ্য। এসব রোগ থেকে সাবধান হওয়া ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই বিশ্বজুড়ে নানা কর্মসূচি হয়।

বাংলাদেশেরও মশাবাহিত রোগে নাজেহাল অবস্থায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। এখানে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন বেশি বেড়েছে। এছাড়া কয়েকটি রোগ মশা থেকেই ছড়ায়। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ফাইলেরিয়া, জিকা, পীতজ্বর এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য। এসব রোগে সচেতনতা না থাকলে এবং সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নিলে হারাতে হয় প্রিয়জনদের। মশাবাহিত কিছু ভয়াবহ রোগ নিয়ে জানাব এই আয়োজনে।
 

ম্যালেরিয়া

ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই এই দিবসটি পালন শুরু হয়। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু ছড়ায়। দেশে মোট ৩৬ প্রজাতির অ্যানোফিলিস মশা রয়েছে। ৭টি প্রজাতির মশা এই রোগ ছড়ায়। গ্রীষ্মকালে এই রোগ বেশি দেখা যায়। পার্বত্য ও সীমান্ত এলাকাতে বেশি হয়। ২০০৮ সালে দেশের প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। ওই সময় মারা যান ১৫৪ জন। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূলের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ডেঙ্গু

বর্তমানে দেশে চরম আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু রোগ। এডিস মশাবাহিত এই রোগে মানুষের প্রাণহানিও ঘটছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ৭২৫১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৩১ জন। আক্রান্ত ও মৃতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।

এডিস মশার দুটি প্রজাতি এডিস ইজিপ্টি এবং অ্যালবোপিকটাসের মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু ছড়ায়। এটি পাত্রে জমা পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। বর্ষাকালে এর উপদ্রব বেশি বাড়ে। ডেঙ্গু রোগীদের তীব্র জ্বর, শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, তীব্র পেটে ব্যথা হয়। জ্বরের ৪-৫ দিন পর শরীরে র‌্যাশ দেখা যায়। বমিও থাকে।

চিকুনগুনিয়া

এডিস মশা চিকুনগুনিয়া রোগও ছড়ায়। ২০০৮ সালে দেশে প্রথম চিকুনগুনিয়া ধরা পড়ে। এই রোগেও জ্বর, মাথাব্যথা, বমি ভাব, দুর্বলতা, সর্দি-কাশি, এবং র‌্যাশের সঙ্গে শরীরে হাড়ের জয়েন্ট বা সংযোগস্থলে তীব্র ব্যথা হয়।

ফাইলেরিয়া

মশাবাহিত রোগ ফাইলেরিয়াও ভয়াবহ। কিউলেক্স মশার দুটি প্রজাতি এবং ম্যানসোনিয়া মশার একটি প্রজাতি এই রোগ ছডায়। এই রোগে হাত-পাসহ শরীরের অন্য অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। দেশের ৩৪টি জেলায় এই রোগে আক্রান্ত রোগী রয়েছে।

জাপানিজ এনসেফালাইটিস

কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ায় জাপানিজ এনসেফালাইটিস রোগটি । ১৯৭৭ সালে এই রোগ প্রথম শনাক্ত হয় মধুপুর বন এলাকায়। পরে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। টিকাই এই রোগের সবচাইতে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

পীতজ্বর বা ইয়েলো ফিভার

‘ইয়েলো ফিভার’ নামে পরিচিত এই রোগের বাহকও ‘এডিস অ্যাজিপ্টাই’। যার প্রাদুর্ভাব মূলত আফ্রিকা ও আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি । জ্বর, মাথাব্যথা, জন্ডিস, পেশি ব্যথা ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ। সংক্রমণের ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই এ রোগ সেরে যায়। তবে কিছু রোগীকে নাক, মুখ ও পাকস্থলীর রক্তপাতে ভুগতে দেখা যায়।

জিকা ভাইরাস

এই রোগের বাহক মশার বৈজ্ঞানিক নাম ‘এইডেস অ্যালবোপিকটাস’। ‘এশিয়ান টাইগার মসকুইটো’ নামেও এর পরিচিতি এটি। জিকা ভাইরাস সংক্রমণের চোখ লাল হয়ে যায় এবং পেশিতে ব্যথা হয়। এই রোগে মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যেও ছড়াতে পারে ।

Link copied!