চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৬০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর গবেষণা খাতে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে তার নিজ কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ৩৩তম সিনেট সভায় এ বাজেট ঘোষণা করা হয়।
এ সময় বাজেট পেশ করেন সিনেটের সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান। বাজেট আলোচনা শেষে সিনেট সদস্যরা তা অনুমোদন করেন।
বাজেট উত্থাপনকালে তিনি বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছ থেকে ৩৬০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছিল। এ চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ৩৫১ কোটি ৮১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি লাখ টাকা।
ঘাটতি বাজেট ৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বাজেটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৬৩.৯৮ শতাংশ। বিদ্যুৎ খরচ বাবদ ৬ কোটি টাকা। তবে গবেষণা খাতে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা মোট বাজেটের মাত্র ১.৫২ শতাংশ।
এদিকে অনুমোদিত বাজেটে শিক্ষার্থী প্রতি বাৎসরিক গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬১৬ টাকা। এর বিপরীতে আয় ধরা হয়েছে মাত্র ১৮০ টাকা। বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের মধ্যে চিকিৎসায় ৫৮ লাখ, পরিবহন ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, বইপত্র, সংবাদপত্র ও সাময়িকী খাতে ৮৩ লাখ টাকা ও প্রকাশনা খাতে ১৮ লাখ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে।
সিনেট অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, গত সিনেট অধিবেশনে প্রত্যাশা ছিল করোনা মহামারির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হয়ে পুনরায় নব উদ্যমে যাত্রা শুরু করার। আমরা দেখেছি সম্পদে সমৃদ্ধ, উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অগ্রসর দেশ ও জাতির পক্ষেও এ পরিস্থিতিকে সামলানো কষ্ট হয়ে পড়েছে।
উপাচার্য বলেন, করোনা মহামারির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, গবেষণাগার, উদ্যানসহ অন্যান্য ভৌত কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও ইউজিসি কর্তৃপক্ষ এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে আমাদের সহায়তা করেছে বিভিন্নভাবে। আমরা আশা করব সামনের দিনগুলোতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
শিরীণ আখতার বলেন, করোনা অবরুদ্ধতার মধ্যেও এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে আমরা শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, দলসমূহ বিভিন্ন ভৌতকাঠামোর মেরামত ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি যাতে করোনাত্তোর চালু হওয়া শিক্ষা-কার্যক্রম কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন না হয়ে স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যেতে পারে।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম এবং প্রধানতম কেন্দ্র। যে দর্শনকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় তার একাডেমিক কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও অধিকতর দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সততার সঙ্গে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা হবে এ প্রত্যয় আমি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করছি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদীর্ঘকালের সুনাম ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও যথাযথভাবে সংরক্ষিত হবে।
বাজেটের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, বাজেটে ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা খাত, গবেষণা খাত, শাটল ট্রেন ভাড়া, পরীক্ষার পারিতোষিক, পরিবহন ব্যয় এবং শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন ইত্যাদি খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়েছে।








































