আমাদের সেশনের অন্য বিভাগে যারা পড়ে তাদের অনেকের অনার্স পরীক্ষা শেষ। সবাই ফলাফল পেয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। কিন্তু আমাদের এখনো তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়নি। একই সঙ্গে আমাদের তৃতীয় বর্ষের দুটি ব্যাচ চলমান, বলছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইংরেজি বিভাগের ২০১৫- ১৬ সেশনের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমদ।
একই চিত্র শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটেও। ওই বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দিন বলেন, যেখানে চার বছরে অনার্স শেষ হওয়ার কথা সেখানে ছয় বছরেও তা শেষ হয়নি। এতে করে আমাদের কী পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পাঁচটি ব্যাচের জায়গায় আটটি ব্যাচ রয়েছে।
এই চিত্র শুধু দুই বিভাগে নয়, প্রায় অধিকাংশ বিভাগে একই অবস্থা। যত সময় গড়াচ্ছে আরও দীর্ঘ হচ্ছে এই সেশনজট। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই পরিস্থিতির জন্য করোনা মহামারিকে দায়ি করলেও শিক্ষার্থীরা তা মানতে নারাজ।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ইন্সটিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রব হোসাইন বলেন, করোনা মহামারি সারা বিশ্বে চলছে। তার জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের একই অবস্থা। করোনা আসার আগেই আমাদের স্নাতক শেষ হবার কথা। প্রায় বিভাগে তাই হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো তৃতীয় বর্ষ শেষ করতে পারিনি। এই জটের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় দায়ী।
ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড শিক্ষার্থী মনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের চতুর্থ সেমিস্টার পরীক্ষা ২০১৯ সালের নভেম্বরে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো আমাদের পরীক্ষার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি। করোনার প্রভাবে সেশনজট আরও জটিল সমস্যায় রূপ নিচ্ছে।
সেশনজট কমাতে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পরীক্ষা দিতে চাইলেও পরীক্ষা নিতে নারাজ চবি প্রশাসন। অনলাইনে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের যথাযথ মান যাচাই করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন।
অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কিনা জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড বেনু কুমার দে বলেন, অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয় কারণ দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিবে। এখানে তাদের নেটওয়ার্ক, মোবাইল ফোনের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে না
জানা যায়, ২০১৫ সালে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সেশনজট নিরসনকল্পে একটি কমিটি গঠন করেন। এছাড়াও নানামুখী পরিকল্পনার ফলে সেশনজট শূণ্যের কোটায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু মহামারি করোনার প্রভাবে আবারও শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ সেশনজটের মুখে পড়েছে।
গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির এক সভায় অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে কে আহ্বায়ক ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) সৈয়দ মনোয়ার আলীকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সব অনুষদের ডিন, আইসিটি সেলের পরিচালক ও রেজিস্ট্রারকে সদস্য করা হয়।
১৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় চবির সব পরীক্ষা সশরীরে গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে কিছু বিভাগ পরীক্ষা শুরু করলেও পরে স্থগিত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর বেনু কুমার দে সংবাদপ্রকাশকে বলেন, আমাদের সকল বিভাগ এবং ইন্সটিটিউটে অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল বিভাগ ইতিমধ্যে তাদের কোর্স গুলো শেষ করেছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় আমরা এখনই পরীক্ষা নিতে পারছি না। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল শিক্ষার্থীর টিকা নিশ্চিত হওয়ার পরেই আমরা পরীক্ষা শুরু করব।








































