• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১,

নোবিপ্রবিতে ‘চেয়ারম্যান’ পদ নিয়ে যুদ্ধ, বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা


নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২১, ০৪:৩০ পিএম
নোবিপ্রবিতে ‘চেয়ারম্যান’ পদ নিয়ে যুদ্ধ, বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দুইজন শিক্ষক। এতে বিড়ম্বনায় পড়েছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

উচ্চ আদালতের আদেশে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুবোধ কুমার। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ অনুসারে একই দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক তনিমা সরকার। 

বুধবার (১ ডিসেম্বর) কোর্স রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ, চেয়ারম্যান হিসেবে মাসিক ভাতা পুনর্বহাল, জরুরি ভিত্তিতে কক্ষ বরাদ্দ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর দিয়ে তিনটি চিঠি ইস্যু করে ড. সুবোধ কুমার। এর আগে গত ৩০ নভেম্বর বিভাগের পরীক্ষা কমিটির ডাকা মিটিংয়ের  চিঠিতে বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে চিঠিতে স্বাক্ষর করেন তনিমা সরকার।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে তনিমা সরকারের নিয়োগ স্থগিতের আদেশ ২৯ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুবোধ কুমার বলেছেন, “ব্যরিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া স্বাক্ষরে পাঠানো এক নোটিশে নিয়োগ স্থগিতের আদেশ জানানো হলেও তনিমা সরকারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন উচ্চ আদালতের আইনকে অমান্য করা হচ্ছে। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ আদালতের রায় আমলে নিয়ে আমার প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেবে।”

উচ্চ আদালতের মূল কপি না পাওয়ায় এখনো তনিমা সরকার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন নোবিপ্রবি রেজিস্ট্রার (অঃদাঃ) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “আদালতের আদেশ হাতে পেলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে।”

জানা যায়, গত ১ নভেম্বর এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে তনিমা সরকারকে নিযুক্ত করা হয়। উক্ত আদেশ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১-এর ধারা ২৫ (৩) আইন বিরোধী। 

এর প্রেক্ষিতে অধ্যাপক ড. সুবোধ কুমারের পক্ষে গত ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আইনি নোটিশ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দিদার-উল-আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জনকে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ প্রাপ্তরা বাকি চারজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জসিম উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তনিমা সরকার।

পরবর্তীতে, শুনানি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গ করে দেওয়া উক্ত নিয়োগ আদেশ স্থগিত করে উচ্চ আদালত। বিচারপতি এনায়েতুর রহিম ও  বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ২৯ নভেম্বর এই রায় দেন।
 

Link copied!