• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১,

বস্তায় আদা চাষ করে ৬ লাখ টাকা বিক্রির স্বপ্ন হাসানুরের


নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৩, ০৮:৩১ এএম
বস্তায় আদা চাষ করে ৬ লাখ টাকা বিক্রির স্বপ্ন হাসানুরের

নীলফামারীর ডিমলায় বস্তায় আদা চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। তেমনই এক কৃষক হাসানুর রহমান। কৃষি অফিসের সহায়তায় বস্তায় আদা চাষ করেছেন তিনি। ৮ শতাংশ জমিতে ১২০০ বস্তা আদা ৬ লাখ টাকা বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিমলা উপজেলায় প্রায় সাড়ে চার হাজার বস্তা আদা চাষ হয়েছে। প্রতিটি বস্তায় ২-৫ কেজি করে আদা উৎপাদন হয়। এতে অল্প জমিতে অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

কৃষক হাসানুর রহমান বলেন, “আগে মাটিতে আদা চাষ করতাম। নানা সমস্যায় পচন ধরত। রোগবালাইয়ে আদা নষ্ট হয়ে যায়, লোকসান হয়। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে বস্তায় আদা চাষ করেছি সুপারিবাগানে। এখানে তো আমার অন্য কোনো আবাদ হয় না। সেই জায়গায় ১২০০ বস্তা আদা লাগাইছি। প্রতি বস্তায় ২ কেজি করে হলেও ৫-৬ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারব। ফলন ভালো হলে আগামী বছর আরও বেশি করে আদা লাগাব।”

অল্প জমিতে অধিক পরিমাণ ফলনে অনুপ্রাণিত হয়ে হাসানুর রহমানের মতো বস্তায় আদা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরাও।

দহলপাড়া গ্রামের কৃষক কাওসার আলী বলেন, “বাপদাদার আমল থাকি দেখি আসলাম মাটিতে আদা চাষ হয়। এখন নাকি বস্তায় চাষ হয়। ফলন ভালো লাভ বেশি। হাসানুরের রেজাল্ট দেখে আমরাও আগামীতে এই ভাবে আদা চাষ করব।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মানিক বলেন বলেন, “এই চাষ টাতে কৃষক অধিক ফলন পাবে। এক বিঘার চাষ ৮ শতাংশ জমিতে করা সম্ভব। এ ছাড়া বস্তায় আদা চাষে কোনো প্রকার রোগ বালাই আক্রমণ করে না। আর আক্রমণ করলেও তা সহজে সমাধান করা যায়। হাসানুর ভাইয়ের সুপারিবাগানে পতিত একটি জমিতে যে হারে ফলন হয়েছে, তাতে বর্তমান বাজারে তিনি ৬-৭ লাখ টাকার আদা বিক্রি করতে পারবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার আলী বলেন, মূলত আদা হলুদ বা মসলাজাতীয় ফসলগুলো কৃষক মাটিতে আবাদ করে আসছেন। বর্তমান সময়ে অতি বৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টির কারণে আদাতে যে সমস্যাটা হয়, রাইজম রড নামের একটি মারাত্মকভাবে আক্রমণ করে। এ ছাড়া বৃষ্টিতে আদার ক্ষেত নষ্ট হয়। এর জন্য প্রায় ২০ জন কৃষক এবার বস্তায় আদা চাষ করেছেন।

মো. সেকেন্দার আলী আরও বলেন, অল্প জমিতে অধিক ফলন পাওয়া যায় এই পদ্ধতিতে। একটা বস্তায় ২-৫ কেজি পরিমাণ আদা উৎপাদন হয়। ফলে কৃষক অল্প সময়েই লাভবান হয়।

Link copied!