চট্টগ্রামের শোলকবহরে গুলিবিদ্ধ হয় গ্যারেজ শ্রমিক কিশোর আকাশ। এখনো কথা বলতে পারছে না সে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় চলা সহিংসতায় গুলি পেটে ঢুকে নাড়িভুঁড়ি ফুটো করে বের হয়ে যায় তার পিঠ দিয়ে। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে সে এখন কাতরাচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত নয় চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট, শোলকবহর ও শাহ আমানত সেতুসহ বেশ কিছু এলাকা।
এসব ভয়াবহতা দেখেছে আকাশ। তার চোখে-মুখে এখনও আতঙ্কের ছাপ। কারণ ১৭ বছর বয়সী আকাশ দেখেছেন বিভীষিকাময় মুহূর্তগুলো। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে এখন কাতরাচ্ছেন চট্টগ্রাম মেডিকেলে।
এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলের নানা ওয়ার্ডে এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন পথচারী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সাত জন। সরকারের কাছে সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, মাগরিবের নামাজের জন্য শোলকবহর ছোট মসজিদে যাচ্ছিলেন দারুত তারবিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা ওসমান গণি। এ সময় পেছন থেকে গুলি এসে পিঠে লাগলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় চলা সহিংসতায় গুলি এসে তার পিঠে লাগে।
মাওলানা ওসমান গণির ভাষ্য, ‘আমি যখন বের হচ্ছি, তখন আন্দোলনকারীরা ছিলেন না। তারপরও আমাকে পুলিশ গুলি করেছে।’
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গত ১৬ জুলাই কর্মস্থল গ্যারেজ থেকে বাসায় যাচ্ছিল। শোলকবহরে গেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। কারণ গুলি পেট দিয়ে ঢুকে তার আঁতুড়ি ফুটো হয়ে বের হয় পিঠ দিয়ে। এখনো কথা বলতে পারছে না সে। সরকারের কাছে সহায়তার দাবি জানান তার বাবা।
বাবা এনামুল হক জানান, তার ছেলে এখনও কথা বলতে পারে না। পেটে ২০ থেকে ২৫টি সেলাই লেগেছে। শরীর নাড়াতেও পারে না সে; খাবারও খেতে পারে না।
এ ছাড়া, গত ১৮ জুলাই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১৪ বছর বয়সী কিশোর সুজন। বহদ্দারহাট থেকে তার কর্মস্থল যাওয়ার সময় পায়ে গুলিবিদ্ধ হয় সে। সুজন র্যাব সেভেনের অফিসে কাজ করে।
সুজন বলেন, “আমি অফিসে যাওয়ার জন্য বের হই। তখন মারামারি চলছে, গুলি এসে আমার পায়ে লাগে।”
চট্টগ্রামে মেডিকেলে ২ নম্বর ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে তিনজন, ২৬ নম্বরে দুজন ও ৭৯ নম্বরে দুজনসহ মোট ৭ জন গুলিবিদ্ধ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের মধ্যে শ্রমিক, পথচারী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছে।



































