পাবনার হাটবাজারে খুচরা আর পাইকারি বাজারে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে এ জেলায় পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
বুধ ও বৃহস্পতিবার পাবনা শহরের বড় বাজার, হাজিরহাট, আতাইকুলা, সুজানগর, সাঁথিয়া, বেড়ার করমজা হাটসহ বেশ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি হাটে ঘুরে জানা গেছে, শনিবার খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল সর্বোচ্চ ৪০ টাকায়। বুধবার সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। আর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।
বাজারের বড় আড়তদাররা বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়। শনিবার থেকে বাজারে পেঁয়াজ কম আসছে। পাশাপাশি পাবনার পাইকারি মোকামে স্থানীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। এসব কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যেতে পারে। প্রায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে এখানে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকার মতো।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বর্তমানে বেঙ্গালুরু থেকে আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। বেঙ্গালুরু থেকে ট্রাকে করে পেঁয়াজ হিলি বন্দরে আসতে সময় লাগে সাত দিনের মতো। দীর্ঘপথ পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক কাগজ দিয়ে ঢাকা থাকায় এবং ট্রাকে বাতাস প্রবেশ না করায় অনেক পেঁয়াজে পচন ধরে। ফলে সেই পেঁয়াজগুলো রপ্তানি করে লোকসান গুনতে হয়। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার আমেজ। ফলে পেঁয়াজ সরবরাহ কমিয়ে দেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এ জন্য দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে।
শহরের বড় বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল মুকুল হোসেন বলেন, “বাজারে পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক কম আসছে। সে জন্য সব জাতের পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। গত শনিবারে ১৭০০ টাকা মণ কিনলেও গত দুদিন কিনতে হয়েছে ২৩০০ থেকে ২৪০০ টাকা পর্যন্ত। আমাদের বিক্রি করতে হবে এর চেয়েও বেশি দামে।”
ফরহাদ হোসেন নামে এক পেঁয়াজের আড়তদার বলেন, “পেঁয়াজের দামের কোনো ঠিকঠিকানা নেই। মঙ্গলবার সকালে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ টাকা বিক্রি হলেও বিকেলে দাম হয় ৬৫ টাকা করে। আবার কোনো কোনো দোকানে ৭০ টাকাও দাম চাওয়া হচ্ছে।”
সুজানগরের খয়রান এলাকার বাসিন্দা আফসার হোসেন বলেন, “গত শনিবার পাড়ার দোকান থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। বুধবার সকালে সকালে আবার কিনতে গেলে দোকানদার প্রতি কেজির দাম রেখেছেন ৬৫ টাকা করে।”
সুজানগরে হাটে আসা খুচরা ব্যবসায়ী আলম হোসেন বলন, “শহরতলীর হাজিরহাটে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকা করে পেঁয়াজ কিনেছিলাম। কিন্তু বুধবার সুজানগর হাটে এসে দেখি ১৫০ টাকা বেশি অর্থাৎ ২৪৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।”
সুজানগরের পাইকার ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান ও আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পেঁয়াজের বাজার অস্থির অবস্থায় রয়েছে। ব্যবসা করছি খুব টেনশন নিয়ে। বেশি দামে কিনে যদি দাম পড়ে যায় তাহলে ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে। তারা আরও বলেন, সুজানগরের উৎপাদিত পেঁয়াজ আমরা ছোট ব্যবসায়ী ও চাষিদের কাছ থেকে কিনি। এগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালে পাঠানো হয়। কমপক্ষে অর্ধশত ট্রাক পেঁয়াজ এখান থেকে পাঠানো হয়।
পেঁয়াজের পাইকারি মোকাম পাবনার হাজিরহাটের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন, ঝন্টু প্রামাণিক জানান, প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তারা জানান, এলসি করা পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। গত সোমবার এক মণ দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেন ১ হাজার ৮০০ টাকা। গত মঙ্গলবার তা বিক্রি হয় ২ হাজার ৩০০ টাকায়। বুধবার আরও ১০০ টাকা দাম বাড়তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেও পেঁয়াজের দাম বেশি বলে জানান।
ঈশ্বরদীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী ইসলাম বলেন, অধিক মুনাফার জন্য ঈশ্বরদীর বাজারে যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, সে জন্য প্রশাসনের তৎপরতা চলমান। বিদেশ থেকে পেঁয়াজের আমদানি কমে যাওয়ায় হয়তো দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে শুনেছি ভারতে নাকি পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। ওখান থেকে আমদানি করতে হচ্ছে বেশি দামে।
পাবনার জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন বলেন, “বাজার মনিটরিং সেল গঠন করতে এখনো আমরা সরকারি নির্দেশনা পায়নি। নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






































