• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

অবশেষে পদ্মার পেটে গেল স্কুল


রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ০৯:২৮ পিএম
অবশেষে পদ্মার পেটে গেল স্কুল

অবশেষে পদ্মার গ্রাস থেকে রক্ষা পেল না রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি। পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৯ দিনের ব্যবধানে পদ্মার একই স্থানে দু’বার ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়টির একতলা ভবনটি ভেঙে নদীগর্ভে চলে যায়। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে চর সিলিমপুর এলাকার মসজিদসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি।

স্থানীয়রা বলছেন, “আজ দুপুর থেকে ভাঙনে ১০০ মিটার এলাকার সিসিব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।”

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ইমান আলী ফকির বলেন, “গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল খোলার পর আমরা স্কুলের কার্যক্রম শুরু করি। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছিল। কিন্তু ভাঙন শুরু হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাই শিক্ষার্থী উপস্থিতি এমনিতেই কম ছিল এতদিন। কিন্তু আজ সকালে স্কুলের বাম পাশ থেকে ব্লক সরে যাওয়ায় সেটি আজ ভেঙে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পাশের টিনশেডটিও অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 

 স্কুলের মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি পাশের একটি বাড়িতে রাখা হয়েছে। সেখানেই আপাতত বাচ্চাদের পাঠদান করানো হবে বলে জানান প্রধান শিক্ষক ইমান আলী।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমি মো. সায়েফ জানান, পাশেই আমরা এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি পেয়েছি। জৈনক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় স্কুলের নামে জমিটি দিতে চেয়েছেন। আপাতত সেখানে টিনশেড ঘর তুলে স্কুলের কাজ পরিচালনা করা হবে। পরবর্তীতে স্থায়ী ভবন তৈরি করা হবে।

মিজানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, এই পদ্মার ভাঙনে এই স্কুলটি আজ বিলীন হয়ে গেল। এর ফলে এই চরসিলিমপুর এলাকার আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ এখন বাস্তুহারা হবার শঙ্কায়।

স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিমা বলেন, “স্কুল ভবনটি নদীতে চলে গেলে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে।”

আরেক শিক্ষার্থী রুহুল বলেন, “আমাদের স্কুলটা রক্ষা করা খুব প্রয়োজন। তা না হলে আমরা কোথায় পড়াশোনা করব?” 

স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “সকালে সব ঠিকঠাক থাকলেও দুপুর থেকে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, এতে করে আমাদের বাড়িঘর সব নদীতে চলে যাবে। আমরা গরিব মানুষ। কয়েকবার নদীতে আমাদের বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। এটাই এখন আমাদের শেষ ভরসা।” 

এ বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, “পদ্মায় পানি কমার ফলে ব্লকের নিচের মাটি সরে গিয়ে চর সিলিমপুর স্কুল এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার ধসে গেছে। আমরা ভাঙনের জায়গায় বালি ভর্তি জিওব্যাগ ফেলছি এবং আগামীকাল থেকে বালি ভর্তি জিও টিউব ফেলার কাজ করব।”

অন্যদিকে চর সিলিমপুর স্কুলটি সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের শহর রক্ষাকারী বাঁধের বাইরে পদ্মাপাড়ে অবস্থিত। এর একতলা ভবনের সঙ্গেই নদী। বিদ্যালয়টিতে শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১০৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর স্কুল খুললেও বন্যা ও পদ্মার ভাঙন আতঙ্কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

Link copied!