যে ম্যাচ কেউ খেলতে চায় না, সেই ম্যাচের অপেক্ষায় দেশম


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
যে ম্যাচ কেউ খেলতে চায় না, সেই ম্যাচের অপেক্ষায় দেশম

দীর্ঘ ১৪ বছরের রাজকীয় পথচলা। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জয়, আবার ডাগআউটে দাঁড়িয়ে কোচ হিসেবেও বিশ্বজয়ের স্বাদ। ফ্রান্স ফুটবলের অবিসংবাদিত নায়ক দিদিয়ের দেশম চেয়েছিলেন আরেকটি বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে। কিন্তু ডলাসের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ ব্যবধানের হারে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। ফাইনালে ওঠার পরিবর্তে দেশম এখন অপেক্ষায় আছেন এমন এক ম্যাচের জন্য, যা আসলে কেউই খেলতে চায় না। সেটা হলো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।

সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্স ছিল শিরোপার অন্যতম ফেভারিট। কিন্তু মঙ্গলবার স্পেনের বিপক্ষে যেন নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। পুরো ম্যাচে মাত্র ১০টি শট নিতে পেরেছে ফ্রান্স, যা এই বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। কোচ দেশম অবশ্য হারের জন্য কোনো অজুহাত খুঁজছেন না। তিনি বলেন, ‘ফলাফল যাই হোক, আমি আমাদের এই সফরের প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ে গর্বিত। ফ্রান্সকে ফুটবলের সর্বোচ্চ চূড়ায় নিয়ে যাওয়াটাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য।’

এমবাপ্পে অবশ্য দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সেমিফাইনালে আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, তা বাস্তবায়নে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। স্পেন আমাদের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল, তা সামলাতে আমরা হিমশিম খেয়েছি।’
২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্রান্স ফুটবলে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছিলেন দেশম। ২০০৮ ও ২০১০ সালের সেই ব্যর্থ ফ্রান্সকে তিনি নতুন করে গড়ে তুলেছিলেন। তার অধীনে ফ্রান্স দুইবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে, জিতেছে ২০১৮ সালের শিরোপা। বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিস বা রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপ্পের মতো প্রতিভাকে একত্রিত করে তিনি তৈরি করেছিলেন এক শক্তিশালী দল।

সাবেক সতীর্থ এবং ফরাসি স্ট্রাইকার অলিভার জিরু আবেগপ্রবণ কণ্ঠে দেশমকে তুলনা করেছেন ‘দ্বিতীয় বাবা’ হিসেবে। জিরু বলেন, ‘তিনি আমাদের শিখিয়েছেন লড়াইয়ের মন্ত্র। তার অধীনে খেলাটা ছিল আমার ক্যারিয়ারের সেরা সময়। শিরোপা জেতার তৃপ্তি আর তার প্রতি আমাদের সম্মান চিরস্থায়ী।’

দেশমের বিদায়ের পরপরই পরবর্তী কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে জিনেদিন জিদানের নাম। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ী জিদানই নাকি হতে যাচ্ছেন ফ্রান্সের পরবর্তী কোচ। তবে জিদানের কাজটা যে সহজ হবে না তা মনে করিয়ে দিয়েছেন সাবেক ফরাসি ডিফেন্ডার গায়েল ক্লিচি, ‘দেশম যেভাবে ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে শীর্ষে তুলে এনেছিলেন, তার উত্তরসূরির জন্য সেই মানদণ্ড বজায় রাখা হবে বিশাল এক চ্যালেঞ্জ।’
আগামী শনিবার মায়ামিতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পরাজিত দলের বিপক্ষে শেষবারের মতো ফ্রান্সের ডাগআউটে দাঁড়াবেন দেশম। কোনো জৌলুস নেই, নেই ট্রফির হাতছানি; তবুও ফরাসি ফুটবলের এই কিংবদন্তি কোচকে একটি সম্মানজনক বিদায় জানাতে প্রস্তুত বিশ্ব।

Link copied!