ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ফিফা আসিয়ান কাপে অভিযান। এরপর বাংলাদেশের দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়রের বিরুদ্ধে উঠেছে নাইট ক্লাবে যাওয়ার অভিযোগ। এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক তদন্ত।
এই বিতর্ক নিয়ে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রবিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারে এশিয়ান গেমসে উশুতে পদকজয়ী জিনাত আক্তারকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'ফুটবলের ফলাফল এমনিতেই খুব বাজে হয়েছে। তার ওপর এই অভিযোগ এসেছে। আমি অত্যন্ত হতাশ। সে সময় দলের দায়িত্বে বা ম্যানেজমেন্টে কারা ছিলেন, আমরা সেটিও খতিয়ে দেখছি।'
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক এনে দেওয়া জিন্নাত আক্তারকে সংবর্ধনা দিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। উশুর ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জজয়ী এই ক্রীড়াবিদকে এক লাখ টাকা পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে। তার প্রশংসা করলেও দুই ফুটবলারের নাইট ক্লাব বিতর্কে ক্ষোভ জানিয়েছেন আমিনুল হক।
আমিনুল বলেন, 'আমি পরিষ্কার করে বলছি, তাদের নাইট ক্লাবে যাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর তাঁর যদি ক্রীড়া ভাতা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন, তবে তাও বাতিল করা হবে।'
বাফুফের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমি বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। তিনি ফিরলে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করব। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ধরনের পারফরম্যান্সের পর তারা কীভাবে এমন কাজ করার সাহস পেল, তাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। পুরো বিষয়টিরই নিরপেক্ষ তদন্ত হবে।'
ইন্দোনেশিয়ার এলেনা নামের এক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সঙ্গে ‘দ্য এইচ’ নাইট ক্লাবের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। সেই ছবিতে তিন তরুণীর মাঝে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানাকে। সাদের বাহুডোরে দেখা যাচ্ছে একজনকে।
ছবিতে পানশালা বা ডিস্কোর পরিবেশ স্পষ্ট হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভের।
ভক্তদের ধারণা, মাঠের খেলায় দল যখন ব্যর্থতার সাগরে ডুবেছে, তারপর ফুর্তিতে মেতে ছিলেন এই ফুটবলাররা! তবে তাদের দাবি ছবিটা জাকার্তার নয় নেপালে তোলা। অথচ নেপালে ‘দ্য এইচ’ নাইট ক্লাবের কোন শাখা নেই।



















