এডিবির ১০ কোটি ডলারের ঋণ

 নারীদের অগ্রাধিকার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০১:৫৫ এএম
 নারীদের অগ্রাধিকার

বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও টেকসই আবাসন সুবিধা বাড়াতে সহজ শর্তে ১০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।


‘ইনক্লুসিভ অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


সেখানে বলা হয়েছে, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) মাধ্যমে এই তহবিল পরিচালিত হবে।


প্রথাগত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যারা ঋণ পান না, এমন অপ্রাতিষ্ঠানিক আয়ের পরিবারগুলোকে বাড়ি নির্মাণ, মেরামত ও মানোন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ দেওয়াই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ) চিয়াংফেং ঝাং বলেন, “আবাসন হল মানুষের মর্যাদা, সুযোগ ও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ও টেকসই আবাসনে বিনিয়োগে সহায়তা করার মাধ্যমে এই প্রকল্প বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে।”
এ প্রকল্পের আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩২ হাজার নারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতা এই সুবিধা পাবেন।


এই উদ্যোগ শুধু ঋণ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রকল্পটি মানুষের মধ্যে আর্থিক ও ভূমি বিষয়ক জ্ঞান এবং আবাসন অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করবে।


ঋণগ্রহীতাদের স্বামী বা স্ত্রীর আবাসিক বন্দোবস্তের নথিপত্রের মাধ্যমে নারীদের আবাসন নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশজুড়ে আবাসন খাতে ক্ষুদ্রঋণের দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রকল্পে নকশা, নির্মাণ এবং দুর্যোগ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাকে যুক্ত করা হবে।


“ফলে এসব বাড়ি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, চরম তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারবে।”


পিকেএসএফ এবং ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত ডেটা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ-ঝুঁকি যাচাইকরণ এবং ডিজিটাল রিপোর্টিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রকল্পটি দেশের আবাসন অর্থায়ন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করছে এডিবি। এর ফলে এই খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও বাড়বে।


মোট ১০ কোটি ডলারের এই অর্থায়নের মধ্যে এডিবির জলবায়ু অভিযোজন তহবিল থেকে ৪ কোটি ডলার দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা অনুদান হিসেবে অতিরিক্ত ৬ লাখ ডলার দেওয়া হবে।


১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য কাজ করে আসছে। এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৬৯।
 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!