মাগুরায় এক বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল এলো ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা!


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
মাগুরায় এক বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল এলো ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা!

মাগুরার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুন এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন ২৩৫ ইউনিট। এই বিদ্যুতের বিল দেখে তার হয়তো মনে হতে পারে, ভুল করে বিলের অঙ্কের ঘরে বাড়তি কয়েকটি শূন্য বসেছে। কিন্তু বিলটি হাতে নিয়ে তার চোখে পড়ে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

অস্বাভাবিক এই বিল দিয়েছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিস। বিলের ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট ও ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ হয়ে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

তবে শেষ পর্যন্ত আলেয়া খাতুনকে ওই বিপুল অঙ্কের টাকা দিতে হয়নি। বিল সংশোধনের পর ২৩৫ ইউনিটের বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য তিনি পরিশোধ করেছেন ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, মিটার পরিবর্তনের সময় ভুল করে মিটারের সিল নম্বরের ডিজিট ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছিল।

আলেয়া খাতুন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। তার নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের ওই বিল ইস্যু করা হয়। বিলের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে তার বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। আবাসিক গ্রাহক হিসেবে এই ব্যবহারের বিপরীতে বিল হওয়ার কথা ছিল প্রায় ১ হাজার ৯৬৩ টাকা।

১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ পাওনা বেড়ে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বিলটিতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ ছিল।

৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিদ্যুৎ বিল। ছবি: আগামীর সময়
৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিদ্যুৎ বিল। ছবি: আগামীর সময়

‘আজগুবি বিল’
অস্বাভাবিক বিলের বিষয়ে আলেয়া খাতুন বললেন, ‘এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবি বিল। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে একজন সাধারণ গ্রাহককে দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া দরকার।’

তবে বিলের অস্বাভাবিকতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, বিলটি সংশোধন হয়ে গেলেও বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তাকে বিব্রত হতে হচ্ছে।

আলেয়া খাতুন আক্ষেপ করেন, ‘আমি কাউকে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইনি। কিন্তু এখন বিলের মূল বিষয় বাদ দিয়ে আমিই যেন খবরের বিষয় হয়ে গেছি। অনেক মানুষ নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। এতে আমার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম। ছবি: আগামীর সময়
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম। ছবি: আগামীর সময়

যেভাবে হলো এত বড় ভুল
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিমের দাবি, মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ায় অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছিল।

তিনি বললেন, বিষয়টি জানার পর দ্রুত বিল সংশোধন করা হয়েছে। পরে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাবে গ্রাহকের বিল আসে ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। তিনি সেই বিল পরিশোধ করেছেন।

ডিজিএম আরও বললেন, এ ঘটনায় বিল প্রস্তুতকারীদের সতর্ক করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে গ্রাহক পর্যায়ে এ ধরনের ভোগান্তি আর না হয়।

Link copied!