স্তাদিও মনুমেন্তাল যেন জনসমুদ্র। লোকে লোকারণ্য গ্যালারি। দর্শকদের কারও হাতে পোস্টার, ব্যানার কিংবা তাঁদের প্রিয় তারকার ছবি। কণ্ঠে ‘মেসি’ ‘মেসি’ চিৎকার। তাঁদের গর্জনে প্রকম্পিত স্টেডিয়াম।
এটা একটা কল্পিত ছবি। গত আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের পর অনেকেই এমন একটা ছবি কল্পনা করে হাহাকার করেছিলেন—দেশের মাটিতে, সমর্থকভরা গ্যালারির সামনে শেষ ম্যাচটা না খেলেই বর্ণিল মেসির বর্ণহীন বিদায়! দেশ-বিদেশের হাজারও ভক্তকুলের সেই হাহাকার শুনতে পেয়েই কিনা গত মাসে আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন (এএফএ) ঘোষণা করে অক্টোবরে আর্জেন্টিনার মাটিতে আয়োজন করা হবে ক্ষণজন্মা মেসির বিদায়ী ম্যাচ। সেই ম্যাচের দুয়ারে এসে কড়া নাড়ছে সময়। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৫টাই বুয়েনস এইরেসে হবে মেসির বিদায় ম্যাচ। প্রতিপক্ষ বেনিন।
ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি হতে পারে এক মিসম্যাচের আয়োজন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনা আগের ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ের ৬২ নম্বরে থাকা বুরকিনা ফাসোর জালে গুনে গুনে ৭ গোল দিয়েছে। তাদের চেয়ে পিছিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের ৮৯ নম্বরে থাকা বেনিনের বিপক্ষে সে হিসাবে আরও বেশি গোল পাওয়ার কথা স্বাগতিকদের। কিন্তু এ নিয়ে ভাবতে বয়েই গেছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচটি খেলে আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখবেন মেসি—সেটাই আর্জেন্টিনা জাতির উদ্যাপনের বড় একটা উপলক্ষ।
যে উপলক্ষের অংশ হতে মেসি এখন আর্জেন্টিনায়। গত শুক্রবার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো, ছেলে থিয়াগো, মাতেও, চিরো এবং মা সেলিয়া কুকচিতিনিকে নিয়ে রোজারিও যান মেসি। সেখান থেকে রোববার বিকেলে এসেইসায় গিয়ে দলের সঙ্গে যুক্তও হয়েছেন। সেদিনই সন্ধ্যা নাগাদ সেখানে দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। পরে এক বারবিকিউ পার্টিতে (আর্জেন্টাইনরা যাঁকে বলেন আসাদো) অংশও নেন। দলের বারবিকিউ পার্টি মানেই আকাশি-সাদা রঙে আঁকা অবিস্মরণীয় সব স্মৃতি। তবে এবার সেই স্মৃতির সঙ্গে মিশে ছিল বেদনার সুর। শেষ ম্যাচটা খেলার পরই এই আর্জেন্টিনা দলের ত্রিসীমানায় সাবেক হয়ে যাবেন মেসি।
মেসির শেষ ম্যাচে স্বপ্নের একাদশ সাজাচ্ছেন আর্জেন্টিনা কোচমেসির শেষ ম্যাচে স্বপ্নের একাদশ সাজাচ্ছেন আর্জেন্টিনা কোচ
দলে মেসি যাতে একাকিত্বে না ভোগেন, সে জন্য তাঁর সতীর্থ রদ্রিগো দে পল, জিওভানি লো চেলসো এবং বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনা দলকে বিদায় জানানো নিকোলাস ওতামেন্দিকে মেসির শেষ ম্যাচের দলে নিয়ে আসা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে দলে না থাকলেও দলের বারবিকিউ পার্টিতে ঠিকই ছিলেন মেসির আরেক সতীর্থ লেয়ান্দ্রো পারেদেসও।
শুধু সতীর্থরাই নন, বিশ্বকাপ খেলা দলের সকল সদস্য ও তাঁদের পরিবারকে ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মেসি শেষ ম্যাচ খেলবেন। কিন্তু মেসি-উত্তর আর্জেন্টিনা দলে তাঁর জায়গা নেবে কে? এখনই এ নিয়ে আর্জেন্টাইনরা ভাবতে না চাইলেও প্রসঙ্গ চলেই আসে। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এমনই এক প্রশ্নের উত্তরও দিতে হলো কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। মেসির শূন্যতা পূরণ করা যে সহজ নয়, এটা মেনে নিয়েও বললেন, ‘লিও যে শূন্যতা রেখে যাবে, সমষ্টিগতভাবেই আমরা তা পূরণের চেষ্টা করব।’



















