বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪নং থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, সোমবার রাতে পারশুন গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে সন্দেহজনক লোকসমাগম দেখতে পেয়ে তারা সেখানে যান। ওই সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলালসহ জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় বেলালসহ দুজনকে আটক করে বুড়ইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই জামায়াতের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলায় মাসুদ রানা ও তার ভাইকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় মাসুদ রানার বাড়িসহ তিনটি বাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে বগুড়া-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা হয়নি। বরং বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের কর্মী গালিবকে মারধর করে আহত করেছে। মিথ্যা অভিযোগে আমাদের দুই কর্মীকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে এই হামলা হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে ভোটের দিন পরিস্থিতির চরম অবনতি হবে। আমরা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নির্বাচনের আগে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগামীকাল ভোটের দিনে এ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।






























