• ঢাকা
  • শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,

সাজা দেওয়ার আগে পৃথক শুনানি করতে হবে : হাইকোর্ট


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৩, ০৮:৩৩ এএম
সাজা দেওয়ার আগে পৃথক শুনানি করতে হবে : হাইকোর্ট

ফৌজদারি মামলায় রায় ঘোষণার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাজা দেওয়ার বিষয়ে বিচারিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালকে পৃথক শুনানি করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিষয়টি জানিয়ে সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের প্রতি সার্কুলার জারি করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যখন উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় তখন বিচারক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কয়েক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন বিচারক তার মনের এই কথাটি উন্মুক্ত আদালতে মামলার উভয় পক্ষের আইনজীবীদের জানাবেন। এরপর উপযুক্ত শাস্তি নির্ধারণের জন্য আসামির শাস্তির বিষয়ে পৃথক শুনানির জন্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে একটি তারিখ ধার্য করবেন। সেই ধার্য তারিখের শুনানিতে আসামির সামাজিক অবস্থান, অপরাধের রেকর্ড, বয়স ও আর্থিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি ঘোষণার কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

‘রাষ্ট্র বনাম মো. লাভলু‍‍` মামলায় বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রায়ের এই নির্দেশনা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, “ফৌজদারি মামলায় আসামির শাস্তি নির্ধারণে আলাদা শুনানি করতে হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে তা নিম্ন আদালতের জন্য এখন বাধ্যতামূলক হবে। যদিও এ ধরনের পৃথক শুনানির ব্যবস্থা প্রচলিত আইনে নেই। এ কারণে এই রায়ের নির্দেশনা প্রতিপালন করা আইনগতভাবে কতটুকু সম্ভব সেটা নির্ধারণে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব। কারণ ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় এ বিষয়টি আপিল বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত হওয়া উচিত।”

সাবেক বিচারপতি ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, “অপরাধের গভীরতার মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে সাজার মেয়াদ নির্ধারণ করা উচিত। সেই দিক থেকে এ রায় যুগান্তকারী।”

দুই বছর আগে ‘আতাউর মৃধা বনাম রাষ্ট্র মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছিল, বাংলাদেশের বিচারকদের জন্য শাস্তি প্রদানের কোনো গাইডলাইন নাই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই এই শাস্তি প্রদানের নীতিমালা আছে। তাই শাস্তি প্রদানের জন্য বাংলাদেশে আইনসিদ্ধ নির্দেশিকা প্রয়োজন। অপরাধের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে এই নির্দেশিকা প্রণয়ন জরুরি।

ধর্ষণ, খুন, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন বিচারক। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে নতুন একটি দিক যুক্তের নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। যেখানে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য না করে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী আসামির শাস্তি কী হবে সেটা নির্ধারণে পৃথক শুনানির জন্য ব্যবস্থা রাখা। সেই শুনানিতে অপরাধীর বয়স, চরিত্র, ব্যক্তি বা সমাজের প্রতি সংঘটিত অপরাধের প্রভাব, অপরাধী অভ্যাসগত, সাধারণ নাকি পেশাদার, অপরাধীর ওপর শাস্তির প্রভাব, বিচার বিলম্ব এবং দীর্ঘস্থায়ী বিচার চলায় কারাগারে আটক থাকায় অপরাধীর মানসিক যন্ত্রণার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। যাতে একজন অপরাধী নিজেকে সংশোধন ও সংস্কারের সুযোগ পান। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে শাস্তির বিষয়ে রায় দেবেন বিচারক।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, “শাস্তি নির্ধারণের জন্য পৃথক শুনানির যে নির্দেশনা রায়ে বলা হয়েছে সেটা ভালো উদ্যোগ। তবে এর জন্য একটা নীতিমালা করতে হবে সরকারকে। কারণ নানা ধরনের অপরাধ রয়েছে। বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় আমলে নিতে হবে বিচারকদের, যা নীতিমালায় থাকতে হবে।”

Link copied!