• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ উদযাপিত


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৩, ১০:৫৬ এএম
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ উদযাপিত

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার (২১ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। দিনাজপুরে ১৩ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল ফিতরের এই নামাজ।

সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা শহরের চারুবাবু মোড় সংলগ্ন পার্টি সেন্টারে জামাতটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বিরল উপজেলার ফ্যামিলি কেয়ার মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক। এতে অংশ নেন ৫ শতাধিক পরিবারের সদস্য। আর ঈদের জামাতের আয়োজন করেন আলহাজ্ব মকবুল।

সৌদি আরবের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি পার্টি সেন্টারে আসা মুসল্লিরা। মুসল্লিদের দাবি, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সারা দেশে একসঙ্গে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হোক।

জামাতে অংশ নেওয়া ইবনে মাসুদ বলেন, “১৯৯৬ সালে লুনার ক্যালেন্ডার হিসাবে আম্বানে বিবৃতি দেওয়া হয়, সারা দেশের মুসলিম এক তারিখে চলবে। সেই এক তারিখ মেনে আমরা ঈদ পালন করলাম। সারা দেশের মুসলিম ভাইদের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে, লুনার ক্যালেন্ডার হিসেবে বিশ্বে যেন একসঙ্গে ঈদ পালন করতে পারি।”  

ঈদ জামাতের ইমাম মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা বিশ্বের সকল মুসলিম এক আল্লাহ্‌র বান্দা এবং এক নবীর উম্মত। আমাদের যে ক্যালেন্ডারে মাস বা দিনের যে গণনা আছে, সেই গণনা কিন্তু সারা পৃথিবীতে একটাই। আজকে শুক্রবার মানে সারা পৃথিবীতেই আজকে শুক্রবার। টাইম (সময়) নির্ধারণ করে সূর্য এবং ডেট (তারিখ) নির্ধারণ করে চাঁদ। আজকে যদি শাওয়াল মাসের ১ তারিখ হয়। তবে সারা বিশ্বেই একই তারিখ। চাঁদ যেহেতু উঠে গেছে সেহেতু ডেট শুরু হয়ে গেছে। এখন রইল টাইমটা। সূর্য যেহেতু উঠেছে। এই যুক্তিতে সারা পৃথিবীতে একদিনের বিভিন্ন সময়ে সারা বিশ্বে ঈদ পালন করা সম্ভব। আল্লাহ বলেছেন ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে ডাকতে। তাই আমরা মুসলিম হিসাবে এটাই আহ্বান জানাব, সকলেই যেন এক তারিখে ঈদ পালন করতে পারি।”

নোয়াখালী

নোয়াখালীতে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন ৫টি মসজিদের মুসল্লিরা।

শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বসন্তবাগ গ্রামের মুন্সী বাড়ি জামে মসজিদ, জিরতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফাজলিপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ি মসজিদ ও নোয়াখালী পৌরসভা লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের দায়রা বাড়ি কাছারি ঘর, হরিনারায়ণপুর দায়রা শরীফ জামে মসজিদ ও পশ্চিম সাহাপুর মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসন্তবাগ গ্রামের ঈদের জামাতে ২০০-২৫০ জন মুসল্লি, নোয়াখালী পৌরসভা হরিনারায়ণপুর ভেন্ডার মসজিদের পূর্ব পাশে দায়রা ঘরে ২২ জন মুসল্লি, পশ্চিম সাহাপুর জামে মসজিদে ১৫-২০ জন, জিরতলী ফাজিলপুর গ্রামের মসজিদে ৩০০-৪০০ জন মুসল্লি ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, “সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রেখেছি এবং সেই অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করছি। আমাদের পূর্বপুরুষরাও একই নিয়ম মেনে রোজা রেখেছে এবং ঈদ উদযাপন করেছেন।”

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম ও বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি। 

ফরিদপুর

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার ১৩টি গ্রামের বাসিন্দারা।  

বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে পবিত্র রোজা পালন শুরু করে। তাই অন্য এলাকার একদিন আগে ওই ১০ গ্রামের লোকজন ঈদ উদযাপন করে থাকেন।

এছাড়া আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদর ইউনিয়নের শুকুরহাটা, ইছাপাশাসহ ৩টি গ্রামের কিছু মানুষ একইসঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন। একদিন আগে যারা রোজা ও ঈদ উৎসব উদযাপন করেন তারা সবাই চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরিফের মুরিদ।

আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বোয়ালমারীর কাঁটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহিদুল হক বলেন, চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরিফের অনুসারীরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেন। বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কাঁটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকোমড়া, রাখালতলি গঙ্গানন্দপুরসহ ১০ গ্রামের আংশিক এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের তিন গ্রামসহ মোট ১৩ গ্রামের লোকজন এটা করে থাকেন।  

আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কার বলেন, “সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আমরা আগে তিন গ্রামের কিছু লোকজন নিয়ে ধলেরচর মাদ্রাসা ঈদগাহ নামাজ আদায় করতাম। আমাদের ইমাম অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান মারা যাওয়ার পর থেকে এখানে আর জামাত হয় না। এখন কয়েকজন সহস্রাইল গিয়ে নামাজ আদায় করেন।”

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারেফ হোসাইন বলেন, “সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ঈদ পালিত হচ্ছে বলে আমি শুনেছি। কয় গ্রামে ঈদ পালিত হচ্ছে তা সুনির্দিষ্ট করে এখন বলতে পারছি না।”

সাতক্ষীরা

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরা বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতর নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে সাতটায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাউকোলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে মাওলানা মোহাব্বত আলীর ইমামতিতে সেখানে নামাজ আদায় করেন ৬৫-৭০ জন মুসুল্লি।

বাউকোলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাব্বত আলী বলেন, “আমরা রমজান মাসের চাঁদ দেখে রোজা থাকি এবং শাওয়াল মাসের ১ তারিখে চাঁদ দেখে ঈদের নামাজ আদায় করি। আমরা অন্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদ উদযাপন করছি।”

এ সময় মুসল্লিরা বলেন, ১৯৮৬ সালে জর্ডানের আম্মান শহরে ওআইসির সম্মেলনে সমগ্র মুসলিম জাতিকে নিয়ে যে রেজুলেশন হয়েছিলো। তাতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ঈদ ও রোজা একই সময়ে হওয়ার কথা, অথচ তা আলাদাভাবে পালিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চার গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (২১এপ্রিল) সকালে উপজেলার কয়েকটি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের মহিষামুড়ি চর, তুষভান্ডার ইউনিয়নের সুন্দ্রাহবি মুন্সিপাড়া জামে মসজিদ, চন্দ্রপুর ইউনিয়নের পানি খাওয়ার ঘাট ও একই ইউনিয়নের বোতলা এলাকায় এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মুন্সিপাড়ার ঈদগাহ মাঠের সভাপতি মাওলানা মাছুম বিল্লাহ্ বলেন, সারা বিশ্বে একই দিন ঈদ হবে। এ বিশ্বাস থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কয়েক বছর ধরে এ এলাকার মানুষ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবে কদর, শবে মেরাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।

লক্ষ্মীপুর

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে লক্ষ্মীপুরে ১০টি গ্রামে শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বারো ঘরিয়া, হোটাটিয়া, শরশোই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপাসহ ১০টি গ্রামের সহস্রাধিক মুসল্লি ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।

সকাল ৭টায় রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় নোয়াগাঁও বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব নোয়াগাঁও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

মাওলানা ইসহাক (রা.) অনুসারী হিসেবে এসব এলাকার মানুষ মক্কা ও মদিনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। এসব গ্রামের মুসল্লিরা ৪৪ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।


সরিষাবাড়ী (জামালপুর)

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার ১৫টি গ্রামের মানুষ পৃথক পৃথক তিনটি স্থানে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার, মহাদান ইউনিয়নের উচ্চ গ্রাম ও বনগ্রামসহ তিনটি স্থানে ৩ শতাধিক নারী, পুরুষ নামাজ আদায় করেন।

টাঙ্গাইল

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের শশীনাড়া গ্রামের ৪০টি পরিবার ঈদ পালন করে।

স্থানীয় ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ এরশাদ জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ১০ বছর ধরে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয় এ গ্রামে।

সুনামগঞ্জ

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৬টি গ্রামের শতাধিক মানুষ। ওইসব গ্রামের বাসিন্দারা সৌদি আরবের রেখে রোজা রাখেন। তবে কোরবানির ঈদ (ইদুল আজহা) বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রেখে পালন করেন।

আমতৈল গ্রামের শিক্ষক জহিরুল ইসলাম জানান, “চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জা কিল দরবার শরীফের অনুসারী আমরা। তাই সেখানকার দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখেই রোজা ও পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করি। তবে ঈদুল আজহা দেশের সঙ্গে মিল রেখে উদযাপন করি।”

Link copied!