ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকাল ৪টায়। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সমন্বয় শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়েছে কমিশন আয়োজিত ব্রিফিংয়ে।
এতে ক্ষমতাসীন দল মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। তবে ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট, ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত প্রার্থী।
বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা হওয়ার পর ফয়সল আমীন আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আজ আবহাওয়া একটু খারাপ থাকলেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, ভোটার উপস্থিতিও সন্তোষজনক ছিল। সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী, মিথ্যে দিয়ে সত্য রুখে দেওয়া যায় না। এই দল সেই দল যে বিগত ১৭ বছরে নিভে যেতে যেতে আবার ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আজকে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমরা সেই দলের অংশ, একজন কর্মী। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, যারা কাজ করেছেন সবাইকে আমি অভিনন্দন ও ভালোবাসা জানাই। তবে আমরা কোনো বিজয় উদযাপন পালন করব না।’
অন্যদিকে জামায়াত ও ১১-দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী দেলওয়ার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, কিছু অন্যান্য কর্মকর্তার পরিচয়পত্রে ছবি নেই। এইসব স্থানে অনেক অসংগতি দেখা গেছে। ফলে তার পরিচয়ে অন্য কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এটা খুবই উদ্বেগজনক। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন যোগসাজশ করে কারচুপির চেষ্টা করতে পারে। আমরা জালভোটের কথাও শুনেছি।’
বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে খালি হয় ঠাকুরগাঁও-১ আসন। উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন পাঁচ প্রার্থী। তারা হলেন— বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতের দেলওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ, দলীয়করণ ও ব্যালটে আগাম সিল মারার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন।
গোলাম পরওয়ার বললেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া এবং কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ভোট দেওয়া হয়ে গেছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। এ ছাড়া ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী এজেন্টদের দায়িত্বে বাধা দেওয়া এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র না থাকার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় আমরা গভীর উদ্বিগ্ন।














