এমপি নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের আপস!


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
এমপি নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের আপস!

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার পরিবারের সঙ্গে আপস করেছেন আসামি সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম।

আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়ে নজরুল এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা আলমের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তবে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ এক আসামি মাকসুদাকে জামিন দিলেও নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর করেন। ফলে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে এই সংসদ সদস্যকে।

আপসনামায় উল্লেখ করা হয়, নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলে বাদী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না; জামিনের পর দুই পরিবার আগের মতো পারিবারিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে; আর মামলার বিচার ও তদন্তের ক্ষেত্রে উভয়পক্ষ নিরপেক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।


গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকায় নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ সেদিনই শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। তাতে অভিযোগ করা হয়, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তার মেয়েকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।

সেই মামলায় গ্রেপ্তারের পর নজরুল ও মাকসুদাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর দুজনকে পাঠানো হয় কারাগারে।

আজ দুজনের পক্ষে জামিন চেয়ে আপসের খবর জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান।

তিনি পরে সাংবাদিকদের বলেন, নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলামের আপসের শর্তে জামিন চেয়েছিলাম। এরই মধ্যে বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস হয়েছে। শুনানিতে উপস্থিত থেকে বাদী জানিয়েছেন, দুই আসামির জামিন দিলে তার আপত্তি নেই।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী জানান, শুনানি শেষে বিচারক আসামি মাকসুদার জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে গাজী নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে।

মামলাটি আপসযোগ্য নয়, এমন কথা বলেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

মামলার বাদী মাসুম বিল্লাহ সম্পর্কে আসামি নজরুলের ভাগ্নে হন। সেই সূত্রে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম হন নজরুলের নাতনি।

গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন নজরুল। এরপর সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া নিজের ফ্ল্যাটে মরিয়মকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন তিনি।

ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। কক্ষটিতে কিছু চিরকুটও পাওয়া যায়, যেখানে নজরুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বয়ান ছিল, যেগুলো মরিয়মের লেখা বলে পুলিশের ধারণা।

মরিয়মের বাবা যে মামলাটি করেছেন, তাতে নজরুল ও মাকসুদার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে ওবায়দুর রহমানকে। তিনি সম্পর্কে মরিয়মের মামা। এক সময় নজরুলের গাড়ি চালাতেন তিনি। ওবায়দুরও গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়েতে ওবায়দুরই কলকাঠি নেড়েছিলেন।

এদিকে গত জুলাইয়ে ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর ওবায়দুর একটি মামলা করেছিলেন নজরুলের বিরুদ্ধে। সেখানে তাকে হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আনা হয়। ওবায়দুরের দাবি, মেয়েকে সংসদ সদস্য নজরুলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন মরিয়মের বাবা-মা। তখন তিনি বাধা দিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর বিতর্ক ওঠায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নজরুলকে তার দল জামায়াতে ইসলামী বহিষ্কার করে। তবে তার সংসদ সদস্য পদ এখনও টিকে আছে।

Link copied!