দখল-ভাঙচুরে রাজনৈতিক ছাড় নেই: সংবাদ সম্মেলনে মাহ্‌দী আমিন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
দখল-ভাঙচুরে রাজনৈতিক ছাড় নেই: সংবাদ সম্মেলনে মাহ্‌দী আমিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা উজ্জ্বল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিস্তারিত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

মাহদী আমিনের ভাষ্যে, ‘দীর্ঘদিন পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত একটি সরকারের প্রধান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এটা গণতন্ত্রের একটা বিশাল-বলিষ্ঠ পদচারণা ছিল এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, সবার আগে বাংলাদেশ।

‘আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থকে তিনি অটুট রেখেছেন, সবচাইতে বেশি সুরক্ষা দিয়েছেন এবং বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মাধ্যমে।’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি আরও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন, বৈঠক করেন বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে।

মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটা ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গেছে, সেই বার্তা দিয়েছে তারেক রহমান। তিনি বুঝিয়েছেন, বিশ্বের শান্তি এবং সমৃদ্ধি রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটা বড় ভূমিকা পালন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৃহীত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কীভাবে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে? সমস্যার সমাধান হবে? স্বনির্ভর, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে? জনকল্যাণমূলক এবং মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা হবে? সেটার জন্য উনি দেশের অভ্যন্তরীণ সকল পরিকল্পনা এবং পলিসি তুলে ধরেছেন। একই সাথে একটি গণতান্ত্রিক শান্তিকামী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখতে পারে, তার সুস্পষ্ট রূপরেখা তিনি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সেটি গৃহীত হয়েছে।’

বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তারেক রহমান কীভাবে দেশের মর্যাদা বাড়িয়ে তুলেছেন, তা তুলে ধরে তার উপদেষ্টা বলেন, ‘এমন একজন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যার রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ। সুতরাং সে কারণেই সকল বিশ্বনেতাদের কাছে উনি সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছেন, মর্যাদা পেয়েছেন। উনার সম্মান আর মর্যাদা মানে বাংলাদেশের আত্মসম্মান, বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা। এটি বিগত সময়ের চাইতে একটা ভিন্নমাত্রিক অবস্থানে বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবার যে বক্তব্যটি দিয়েছেন, এটি শুধু একটি রুটিন বক্তব্য ছিল না, বরং উনার বক্তব্যের প্রত্যেকটা কথা তিনি বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দিয়েছেন। যারা যারা জাতিসংঘের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, প্রত্যেকের কাছেই সে বক্তব্যটা গেছে। এটাই আমরা মনে করি একটি বড় অর্জন।’

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের কর্মব্যস্ত সময় কাটানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘উনি আটটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনটিতে বক্তব্য প্রদান করেছিলেন। জাতিসংঘের উইমেন লিডার্সের যে প্ল্যাটফর্ম, সেখানে তিনি গিয়েছিলেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া নারী নেতৃবৃন্দের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বাংলাদেশের প্রত্যাশা তিনি তুলে ধরেছিলেন।’

‘ওয়ার্ল্ডস ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়লগ অর্থাৎ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যারা সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছেন উনাদের সহধর্মিণীদের একটা প্রোগ্রামে তিনি গিয়েছিলেন এবং মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পলিসি এবং উনার ভিশন তুলে ধরেছিলেন। যেটি অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। মিড ওয়াইফারি ইভেন্ট যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এটেন্ড করেছিলেন এবং যার আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। সেখানে গিয়ে তিনি নিজে উনার নিজের অভিজ্ঞতা একজন চিকিৎসক হিসেবে এবং পলিসি মেকিংয়ের জায়গা থেকে বাংলাদেশের যে উদ্যোগগুলো রয়েছে, সেগুলো বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

‘সফরসঙ্গী একসময় ছিল ৯২ জন, এবার ৩৫’

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দলে মাত্র ৩৫ জন থাকার বিষয়টি তুলে ধরে সালেহ শিবলী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেদিন গেছেন উনার বহরে ছিল মাত্র ৩৫ জন। আপনারা সবাই ইতিমধ্যে জেনেছেন, আমরা এটাও জেনেছি এই বাংলাদেশ থেকে বিশেষ কিংবা চাটার্ড বিমানে করে ২৯২ জন সফরসঙ্গী নিয়ে জাতিসংঘে গিয়েছিলেন। ২৯২ জন সফরসঙ্গী নিয়ে যারা গিয়েছিলেন, এই টাকাটা কার টাকা? এই টাকাটা আমার টাকা, দেশের জনগণের টাকা, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের টাকা।’

তারেক রহমানের পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ঘটছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘কিছু ঘটনা ঘটানো হলো’

প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক আগে সংঘটিত কিছু ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে মনে করেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেব প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে। তখন দেখা গেল বাংলাদেশে কিছু ঘটনা ঘটানো হলো, ঘটেছে বলব না। এমনভাবে ঘটনা হলো, যাতে আমরা একটা জায়গায় যাচ্ছি যে এই নিউজটা তো প্রাধান্য পাবে, সেটা যাতে প্রাধান্য না পায়।’

আবার প্রধানমন্ত্রী সফর করে আসার পরও কিছু ঘটনা নিয়ে সন্দেহ করছেন রুমন।

তিনি বলেন, ‘যখন দেশে আসলাম, তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সফলতা নিয়ে নিউজ হবে, বিভিন্ন মাধ্যমে কথাবার্তা হবে, টক শো হবে, বিভিন্ন মিডিয়াতে লেখালেখি হবে। ঠিক তখন দেখা গেল আরেকটি ঘটনা ঘটানো হলো।

‘এমন ঘটনা ঘটানো হলো যে আমি খেয়াল করলাম সবগুলো মিডিয়া টক শোতে দেখলাম যে ওইটা নিয়েই একটা ইয়ে করা হলো। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, পলাতক পতিত সরকার যে সূত্রে দেশ চালিয়েছে, সেই মন্ত্রেই মনে হয় আমাদের যারা বিরোধিতা করছে, তারা চলছে। এখনো সেই সূত্রে চলছে।’

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘আমি কথাগুলো ডাইরেক্ট বলছি না…. আপনারা বুঝে নেবেন। একটা সরকারকে যদি আপনারা হাত-পা বেঁধে বলেন যে সাঁতার কেটে এই নদীটা পার হতে হবে। এসব পরীক্ষায় কিন্তু কেউ পাস করতে পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু, মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেসসচিব কে এম নাজমুল হক ও শাহরিয়ার পামির উপস্থিত ছিলেন। 

Link copied!