নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় ট্রলার ডুবে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন একই পরিবারের ৪ সদস্য।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বিয়ের অনুষ্ঠানে আসার সময় এ ঘটনা ঘটে।
ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহত রায়েশা বেগম (৫৫) ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। নিহতের লাশ সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
নিখোঁজ রয়েছেন হেলালউদ্দিন (৫৪), ছেলে সজির হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) ও ছেলে সামিন হোসেন (৫)। ট্রলার ডুবির ঘটনায় বিয়ের আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে।
এদিকে ট্রলার ডুবির ঘটনায় সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিখোঁজদের সন্ধানে মেঘনা নদীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে অন্ধকার নেমে আসায় শুক্রবার সকাল থেকে ডুবুরি দল কাজ করবেন।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য তাদের ১৩ জন আত্মীয় স্বজন বিয়ের বাজার,দুটি গরু ও একটি খাঁসিসহ ট্রলারযোগে আসেন। পথে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে তলিয়ে যায়। এ সময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার ৮ জনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম, হেলালউদ্দিন, সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হন। ঘটনার আধা ঘণ্টা পর রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার হলেও বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহত রায়েশা বেগমের বড় ভাই আবুল কাশেম জানান, মামাতো ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য দুটি গরু, একটি খাসি ও বিয়ের বাজার নিয়ে সোনারগাঁয়ে আসেন। পথে বৃষ্টির সময় ঝড়ের কবলে পড়ে গরু খাসিসহ ট্রলার মেঘনা নদীতে তলিয়ে যায়। এ সময় তার আপন বোন রায়েশা বেগম নিহত হন ও ফুফাতো বোন জামাই হেলালউদ্দিসহ ৪ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহিদ চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মেঘনা নদীতে নিখোঁজ ব্যাক্তিদের সন্ধানে কাজ করছেন।
বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় একজন নিহত ও ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
































