ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ বুধবার সংশ্লিষ্ট দল ও সংগঠনের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এল।
তবে দলীয় বিজ্ঞপ্তিগুলোতে রাড্ডায় হামলার ঘটনার উল্লেখ নেই। বহিষ্কারের কারণ হিসেবে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা।
বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. আমিনুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও মো. মোস্তফা জামানকে সদস্যসচিব করে গঠিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিদ্যমান ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। অতি শিগগির মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। তবে কমিটি বিলুপ্তির কোনো কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
একই দিনে বিএনপির আরেক বিজ্ঞপ্তিতে তিনজনকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। তাঁরা হলেন শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কু। অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত
যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
অন্যদিকে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার কমিটি বিলুপ্তির কথা জানানো হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্রদলের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পাঁচজনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। তাঁরা হলেন ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহসভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন দিপু, সদস্যসচিব ওমর নাঈম এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব শান্ত রহমান।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারের এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের ছয়জন বহিষ্কার
দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আক্তার হোসেন মামুন ও সদস্যসচিব মো. হাফিজুর রহমানকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সহদপ্তর সম্পাদক মো. ওসমান গনির সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
এ ছাড়া শ্রমিক দলের চারজনকে সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন, শাহ আলী থানা অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সদস্য হুজাইফা এবং দারুসসালাম থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক গোলাম রসুল পারভেজ।
শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তরের পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।
জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় থেকে মামুন মিরপুরে একটি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেন। দেশে তাঁর দুই ভাই জামিল রহমান ও মশিউর রহমান বাহিনী পরিচালনা করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মিরপুরের পল্লবী, মিরপুর ১২, সাগুফতা ও বাউনিয়া এলাকার চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা, জমি দখল ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।
























