গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সকল শ্রেণি–পেশার ভোটারকে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আজ বুধবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই গণভোট ও নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।
তার ভাষায়, এটি শুধু সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা এবং জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জাতি জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, এই নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ।
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট মতামত দেবেন এবং জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য ও দায়বদ্ধ জনপ্রতিনিধি বেছে নেবেন। এতে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক তরুণ এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন এবং বহু প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকও দীর্ঘদিন প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে দূরে ছিলেন। তাই এই নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য, আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়—এ দায়িত্ব সবার।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্রের মূলভিত্তি।
প্রতিটি নাগরিক যেন ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পারে—এ নিশ্চিতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
বাণীর শেষ অংশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সহায়তা করবে।






























