প্রধানমন্ত্রী পুত্র থেকে বিএনপির একক নেতায় তারেক রহমান


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
প্রধানমন্ত্রী পুত্র থেকে বিএনপির একক নেতায় তারেক রহমান

বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্ব এবার প্রথমবার দিচ্ছেন তারেক রহমান। মায়ের মৃত্যু এবং চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক অভিষেকের পর তার নেতৃত্বেই দলের নির্বাচনী প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সমর্থকরা তাকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিএনপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এগুলোকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে দেখাচ্ছে।

তারেক রহমান ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে আটক হন। আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে চলে যান। প্রায় সতের বছর পর, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে ঢাকায় ফিরে তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এর কয়েকদিনের মধ্যেই ৯ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের পদে অভিষিক্ত হন। এর আগে তিনি লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির ইউনিটে যোগ দিয়ে। আনুষ্ঠানিকভাবে দলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন ১৯৯১ সালে। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি দলের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, বিশেষ করে হাওয়া ভবন কেন্দ্রীক নির্বাচনী প্রচারণায়। ওই সময়ে সমান্তরাল নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যা পরে দুর্নীতির অভিযোগের কারণ হয়। তবে বিএনপি সব সময় এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে খারিজ করে।

২০০২ সালে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং পরে ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন। বিদেশে থাকা সত্ত্বেও দলের সংহতি বজায় রাখতে এবং তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করতে সক্ষম হওয়ায় তার রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে ফেরার পর তার নেতৃত্ব আরও দৃঢ় হয় এবং দলের নীতিনির্ধারণী কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

দেশে প্রত্যাবর্তন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও মৃত্যু, দীর্ঘমেয়াদি বিদেশ অবস্থান এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশে ফিরে তিনি দলের একক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দলের পরিচালনা ও নির্বাচনী সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং একক নেতৃত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিদেশে থেকে দলের সংহতি রক্ষা, দেশে ফিরে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ এবং এই নির্বাচনে নিজের অবস্থান প্রমাণ—এসব মিলিয়ে তার নেতৃত্ব রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি। বিএনপির প্রাক্তন মিত্র জামায়াতে ইসলামীকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে রেখে তার সিদ্ধান্ত, দলের ঐক্য রক্ষা এবং নির্বাচনী কৌশলই এবার তার রাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাব নির্ধারণ করবে।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!