ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের তল্লাশি জোরদার করেছে পুলিশ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা, সহিংসতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে মঙ্গলবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করছে পুলিশ।
প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে থাকা যাত্রীদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে। সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি করা হচ্ছে ব্যাগ ও যানবাহন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন উপলক্ষে কেউ যেন অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক বা নাশকতামূলক কোনো সামগ্রী বহন করতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এই অভিযান। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় টহলও বাড়ানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে শাহবাগে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে শাহবাগ থানা পুলিশ। প্রথমে পুলিশ গাড়ি থামানোর সংকেত দিচ্ছে। থামার পর গাড়িচালক বা মোটরসাইকেল চালককে হাত উপরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এরপর তার শরীর তল্লাশি করা হচ্ছে। কারও কাছে ব্যাগ থাকলে পুলিশ সেটি খুলে ভেতরে নাশকতামূলক বস্তু আছে কি না তা দেখছে।
তল্লাশিস্থলে উপস্থিত শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব, আব্দুল গণি রোড, চানখারপুল, দোয়েল চত্বর, হাতিরপুল, পরীবাগ ও পলাশীসহ বিভিন্ন সড়কে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এ সময় কারও কাছে নাশকতামূলক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি।
ধানমন্ডির ৮/এ, ধানমন্ডি ২৭, শুক্রাবাদ, সায়েন্সল্যাব মোড়, ধানমন্ডি ১৫ ও জিগাতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানান ধানমন্ডি থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, তার এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি আলাদা তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়েছে।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহরিয়ার আলী বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে তার বিভাগের ছয়টি থানা এলাকায় তল্লাশি ও অভিযান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, নির্বাচন ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।






























