• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, ১২ মুহররম ১৪৪৫

২২ বছর পর ডারউইনের ‘নিখোঁজ’ ডায়েরির সন্ধান


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২২, ০৮:০১ পিএম
২২ বছর পর ডারউইনের ‘নিখোঁজ’ ডায়েরির সন্ধান
ছবি : বিবিসি

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা ছিল চার্লস ডারউইনের লেখা দুইটি ডায়েরি। হঠাৎ ডায়েরিগুলো ‘নিখোঁজ’ হয়ে যায়। তখন থেকেই এই হারিয়ে যাওয়া দিনলিপি নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। ২০০১ সাল থেকে এই দুইটি ডায়েরি পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে প্রায় ২২ বছর পর ডায়েরি দুইটির সন্ধান পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিবিসি বলছে, ডারউইনের বিখ্যাত এই দুইটি ডায়েরি ফিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান ড. জেসিকা গার্ডনার।

ক্যামব্রিজের লাইব্রেরিতে ডায়েরিগুলো বাক্সবন্দী ছিল। ২০০০ সালে ছবি তোলার জন্য ডায়েরির বাক্সটি সরিয়ে নেয়া হয়। বাক্সটিতে ছিল ১৮৩৭ সালে ডারউইনের আঁকা ট্রি অব লাইভ স্কেচের ডায়েরিটি। পরবর্তীকালে স্কেচটি গায়েব হয়ে যায়। এরপর ২০০১ সালে গ্রন্থাগারের বইগুলোর একটি সুবিন্যস্ত তালিকার জন্য বইগুলো স্থানান্তরিত করতে গিয়ে তারা বিষয়টি টের পান।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০টির বেশি গ্রন্থাগার রয়েছে। এর মধ্যে শুধু কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারেই মোট বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। বহু বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ানরা জানতেন চার্লস ডারউইনের বইদুটি এই বিশাল সাম্রাজ্যের মাঝে হারিয়ে গেছে। এ নিয়ে চলেছে অনেক অনুসন্ধান পর্বও। আর অবশেষে ‘আকস্মিকভাবে’ ফিরে পাওয়া গেছে ডায়েরিগুলো।

হারিয়ে যাওয়ার আগে ডায়েরিগুলো একটি নীল বাক্স ও সাধারণ খামে আবৃত ছিল। ফিরে পাওয়ার পর সেগুলো একটি উজ্জ্বল গোলাপি উপহারের ব্যাগে পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে পোস্টকার্ড আকারের দুইটি নোটপ্যাড পাওয়া যায়। তবে কে বা কারা এগুলো রেখে সে বিষয়ে কিছুই জানে না ক্যামব্রিজ কর্তৃপক্ষ।

এই ব্যাগেই ডায়েরিগুলো পাওয়া যায়। ছবি : বিবিসি

ডায়েরিগুলার সঙ্গে পাওয়া দুইটি পোস্টকার্ডে ক্যামব্রিজের লাইব্রেরিয়ানের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা ছিল। সেখানে লেখা ছিল, “শুভ ইস্টার লাইব্রেরিয়ান।” যে বার্তাটি দিয়েছে পোস্টকার্ডে তার পরিচয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এক্স’।

ডারউইনের নোটবুকগুলো পাওয়া যায় লাইব্রেরিয়ান গার্ডনারের অফিসের বাইরে। যারা রেখে গেছে, এমন জায়গায় সেগুলো রাখা ছিল যেখানে সিসিটিভি নেই। ফলে কাউকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এছাড়া নোটবুকগুলো যখন পাওয়া যায় সেগুলো শক্তভাবে প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো ছিল।

এভাবে প্লাস্টিক মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায় ডায়েরি দুইটি। ছবি : বিবিসি

ডায়েরিগুলো পাওয়ার পর ক্যামব্রিজের লাইব্রেরিয়ান ড. জেসিকা গার্ডনার উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, “আমি আনন্দিত বোধ করছি। ডায়েরিগুলো এখন নিরাপদে রাখা আছে।”

গার্ডনার বলছিলেন, “৯ মার্চ একটি ব্যাগ পাই আমারা। আমি ব্যাগটি দেখার পর কাঁপছিলাম। তবে আমি সতর্কও ছিলাম। কারণ ব্যাগটি না খোলা পর্যন্ত আমরা ডায়েরি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছিলাম না।”

তিনি বলেন, “ডায়েরিগুলো আসল কিনা সেটা নিশ্চিত হতে সময় লেগেছে। পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের অনুমতি পেতে পাঁচদিন সময় লাগে। এতে প্লাস্টিক মোড়ানো খুলতে কয়েক দিন দেরি হয়েছে।”

ক্যামব্রিজের পুলিশ জানায়, তারা বিষয়টি তদন্ত করছে। যেখানে ডায়েরিগুলো পাওয়া গেছে তার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে তারা।

ডারউইনের বিবর্তনবাদের ধারণা ও তার ‘ট্রি অব লাইভ’ এর স্কেচ ছিল ডায়েরি দুটির একটিতে। ১৮৩৭ সালে এইচএমএস বিগলে সমুদ্রভ্রমণ থেকে ফিরে ডারউইন তার চামড়ার নোটবুকগুলো লিখেছিলেন।

এর মধ্যে একটিতে তিনি প্রজাতির সম্ভাব্য কয়েকটি বিবর্তনের রেখাচিত্র এঁকেছিলেন। পরে ১৮৫৯ সালে সেগুলোর আরও উন্নত চিত্র তার ‘অন দ্য অরিজিন অব স্পেসিস’ বইয়ে উল্লেখ করেন।

Link copied!