বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের ১-১ গোলে ড্রয়ের পর মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে এখন বড় আলোচনা নেইমার জুনিয়রের ফিটনেস নিয়ে। চোটের কারণে উদ্বোধনী ম্যাচে সাইডলাইনে বসে থাকা এই তারকাকে নিয়ে এবার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ফুটবল বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার জন কোটেরিল। তার দাবি, বর্তমানে সান্তোসের এই তারকা ফরোয়ার্ডের চেয়ে ব্রাজিলের ৪৪ বছর বয়সী কিংবদন্তি কাকা অনেক বেশি ফিট; যিনি ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন ২০১৭ সালে!
২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। একের পর এক হ্যামস্ট্রিং ও এসিএল ইনজুরির কারণে গত তিন বছরে ক্লাব ও দেশের হয়ে প্রায় ১৪৩টি ম্যাচ মিস করেছেন তিনি। গত ১৮ মে থেকে ভুগছেন দ্বিতীয় গ্রেডের কাফ ইনজুরিতে। তা সত্ত্বেও অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রেখে বড় এক বাজি ধরেছেন।
কোচের এই সিদ্ধান্তকে এক হাত নিয়ে টকস্পোর্টের ‘দ্য এস ওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে কোটেরিল বলেন, ‘এটি আনচেলত্তির জন্য একটি মস্ত বড় অস্বস্তি। নেইমারকে দলে নিলে লোকে সমালোচনা করবে, আবার না নিলেও পরিস্থিতি এর চেয়ে খারাপ হতো। চলতি বছর তো বটেই, এই ছেলেটি গত দুই-তিন বছর ধরেই ফিট নয়।’
আগামী ১৯ জুন হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের আগে নেইমার চলতি সপ্তাহে পুরোদমে অনুশীলন শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কোটেরিল মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো হাই-ভোল্টেজ মঞ্চের গতি সহ্য করার মতো অবস্থায় নেইমার এখন নেই। কাকার সাথে তুলনা টেনে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গ্যালারিতে কাকাকে দেখেছি। মাত্র কয়েক মাস আগে কিংস লিগেও আমি কাকা আর নেইমারকে একসাথে দেখেছিলাম। কাকার চেয়ে নেইমারকে ১০ বছরের ছোট মনে হলেও, শারীরিক গড়ন ও ফিটনেসের দিক থেকে কাকাকে অনেক বেশি ফিট দেখাচ্ছিল।’
২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের সতীর্থ হিসেবে খেলা কিংবদন্তি কাকা অবশ্য বন্ধুর পাশেই দাঁড়িয়েছেন। আনচেলত্তির স্কোয়াডে নেইমারের অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে রিও ফার্ডিনান্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাকা বলেন, ‘আমি নেইমারকে খুব পছন্দ করি, আমরা ভালো বন্ধু। ও যদি শারীরিক দিক থেকে পুরোপুরি ফিট হতে পারে, তবে ব্রাজিলের জন্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। আমি আশা করি নেইমার আরও অনেক বছর সুস্থ শরীরে খেলা চালিয়ে যাক।’
১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল নিয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের জন্য এটি ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। এখন দেখার বিষয়, আগামী শুক্রবার হাইতির বিপক্ষে মাঠে নেমে নেইমার এই সব সমালোচনা ও ফিটনেস বিতর্ককে বুড়ো আঙুল দেখাতে পারেন কি না।































