ট্রাম্পের আহ্বানের পর হামলা বন্ধ করল ইরান ও ইসরায়েল


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ১১:০৩ এএম
ট্রাম্পের আহ্বানের পর হামলা বন্ধ করল ইরান ও ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে এসেছে। ‘অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ’ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর হামলা চালানো বন্ধের কথা জানিয়েছে। গতকাল সোমবার হামলা বন্ধের এ তথ্য জানা গেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের সঙ্গে লড়াই বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার ক্ষেত্রে ‘শক্তি দিয়ে’ জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘বর্তমানে এই ফ্রন্টের (ইরান) যুদ্ধ বন্ধ রয়েছে। কারণ, তেহরানের ‘‘সন্ত্রাসী’’ সরকার আঘাত পাওয়ার পর আমাদের ওপর হামলা চালানো বন্ধ করেছে। সেই ‘‘সন্ত্রাসী’’ সরকার যদি আবারও আমাদের ওপর হামলা চালানোর ভুল করে, তবে আমরা শক্তি দিয়ে তার জবাব দেব।’


সম্প্রতি ইসরায়েলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও এর জবাবে ইরানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের পাল্টা হামলা ছিল গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরাসরি সংঘাত। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা, যা এ উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।গতকাল তেহরানও আপাতত হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে ইসরায়েল যদি আবার ইরানে বা লেবাননে হামলা চালায়, তবে এর জবাব দেওয়া হবে বলে জানায় দেশটি।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে হওয়া এ সমঝোতা খুবই ভঙ্গুর। যেকোনো মুহূর্তে একাধিক বিরোধপূর্ণ উৎস থেকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

দুই মাস পর ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় গত রোববার দিবাগত রাতে। গতকাল সকালেও তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে হওয়া এ সমঝোতা খুবই ভঙ্গুর। যেকোনো মুহূর্তে একাধিক বিরোধপূর্ণ উৎস থেকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।

তেহরান ইসরায়েলের বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন সহ্য করবে না। যতক্ষণ না আপনাদের মধ্যে আস্থা তৈরির প্রকৃত সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের জবাব একই রকম থাকবে।

তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধের শর্তে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল ইরান। তবে ইরানের এ ধারাবাহিক প্রচেষ্টা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।

 ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ইসলামপন্থী সশস্ত্র আন্দোলন যদি ইসরায়েলে হামলা চালায়, তবে বৈরুতেও আঘাত করা হবে।

কাৎজ আরও বলেন, ‘লেবানন ও ইরানকে এক সুতোয় বেঁধে ইসরায়েলে হামলার যেকোনো ইরানি চেষ্টার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। যেমনটা রোববার দেওয়া হয়েছে।’

হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে। এর জের ধরেই রোববার ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে ইরান।

ইসরায়েলি হামলার খবরের পর ইরানের মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের কাছ থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যাচ্ছে।ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া/রয়টার্স
এদিকে ইরানও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল বলেন, তেহরান এ ‘বারবার (যুদ্ধবিরতি) লঙ্ঘন’ সহ্য করবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যতক্ষণ না আপনাদের মধ্যে আস্থা তৈরির প্রকৃত সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের জবাব একই রকম থাকবে।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির পরিবেশ তৈরি করতে লেবাননে হামলা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে এক ফোনালাপে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তীব্র ভাষায় তিরস্কারও করেন।

দ্য গার্ডিয়ান

Link copied!