যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশনের করা মামলায় আইনি জয় পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে প্রায় ৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে বলরুম নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
স্থানীয় সময় সোমবার ৫-৪ ভোটে দেওয়া এক আদেশে নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই স্থগিতাদেশের ফলে বলরুমের মাটির ওপরের অংশের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছিল।
তবে মার্কিন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে একমত হননি। ভিন্নমত পোষণ করেছেন আদালতের অন্য তিন বিচারপতির সঙ্গে।
জন রবার্টস বলেছেন, কংগ্রেস প্রকল্পটির অনুমোদন না দেওয়ায় ‘নির্মাণকাজটি সম্ভবত বেআইনি’।
গত বছরের শুরুতে হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ইস্ট উইং ভেঙে বলরুম নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট (৮ হাজার ৪০০ বর্গমিটার) আয়তনের এই বলরুমে বড় ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রকল্পটির বড় অংশ আগামী নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পুরো নির্মাণকাজ শেষ হতে পারে ২০২৮ সালের আগস্টে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, হোয়াইট হাউসে বড় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আরও প্রশস্ত জায়গা প্রয়োজন। নিরাপত্তার বিষয়টিও তিনি সাম্প্রতিক সময়ে প্রকল্পটির পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় কাজ করা ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন প্রকল্পটির বিরুদ্ধে মামলা করে।
সংস্থাটি অভিযোগ জানিয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট এককভাবে হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক অংশ ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
তবে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলরুম প্রকল্পটি আইনসঙ্গত কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
তারা বলেছেন, মামলাকারী সংস্থাটির সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রয়োজনীয় আইনি অধিকার বা ‘স্ট্যান্ডিং’ নেই।
আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভাষ্য, নিম্ন আদালতগুলো নির্মাণ বন্ধ করে দিয়ে সম্ভবত তাদের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে ট্রাম্প প্রশাসন।
আদালত আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ দেখাতে পেরেছে।
ভিন্নমত দেওয়া প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরাজয়। মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য সংস্থাটির যথেষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে।
ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন আদালতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করলেও রবার্টসের ভিন্নমতকে স্বাগত জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, প্রতিটি প্রেসিডেন্টই জনগণের ‘হোয়াইট হাউস’-এর সাময়িক অভিভাবক। এর ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে ভবনটির ঐতিহাসিক অংশ ধ্বংস বা পুনর্নির্মাণের অধিকার থাকা উচিত নয়।
আদালতের রায়ের পর নিজস্ব মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, মামলাটি ‘ভিত্তিহীন’ তাই নির্মাণকাজ থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘স্বর্ণযুগে’ প্রবেশ করেছে। হোয়াইট হাউসের বলরুম ভবনটি ওয়াশিংটনে নির্মিত অন্যতম সেরা স্থাপনা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনকে নতুনভাবে সাজানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ ট্রাম্পের এই হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে একটি হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজও চলছে।
এ ছাড়া লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং প্যারিসের আর্ক দ্য ত্রিয়ম্ফের চেয়েও বড় ‘আর্ক দ্য ট্রাম্প’ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সূত্র : বিবিসি



































