নেপালে বন্যা

সুড়ঙ্গে শতাধিক মানুষ আটকা, চলছে উদ্ধার অভিযান


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
সুড়ঙ্গে শতাধিক মানুষ আটকা, চলছে উদ্ধার অভিযান

হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের তিন দিন পরও নেপালের রসুয়া জেলার ‘ত্রিশূলী ৩এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শতাধিক মানুষকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনী ভারী খননযন্ত্র ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ পরিষ্কার ও খননকাজ শুরু করেছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে শনিবার সকাল থেকে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ পরিষ্কারের কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।

দেশটির দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, গত বুধবার হিমবাহ ধসের পর নদীগুলোয় আকস্মিক প্রবল স্রোত নেমে আসে। এতে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯৩৩ জন কর্মী নিখোঁজ হন। তাঁদের মধ্যে শতাধিক মানুষ এখনো সুড়ঙ্গে আটকা রয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার এনডিআরআরএমএ জানিয়েছিল, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সেনাবাহিনী ৩৫০ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।

নেপালের অনুরোধে চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে সুড়ঙ্গ উদ্ধারকাজে দক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল হেলিকপ্টারে করে নেপালে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।

এদিকে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, ভারতের ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। দলটিতে প্রশিক্ষিত ‘র‌্যাট-হোল’ খনিশ্রমিক রয়েছেন, যাঁরা অত্যন্ত সরু সুড়ঙ্গপথে হামাগুড়ি দিয়ে প্রবেশ করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় দক্ষ।

জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ বলেছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও জটিল পরিস্থিতি সত্ত্বেও ‘ত্রিশূলী ৩বি’ প্রকল্প এলাকায় পুরোদমে উদ্ধার অভিযান চলছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাজ করছেন এবং বন্যার স্রোতে ভেসে আসা বিশাল পাথর সরিয়ে সুড়ঙ্গের দিকে পথ তৈরি করছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানাল আন্তর্জাতিক সহায়তারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আটকে পড়া ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্তে উন্নত প্রযুক্তি এবং ভারী বস্তু উদ্ধারে সক্ষম ড্রোন সহায়তা চেয়েছেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ একসঙ্গে নেমে এসে এ দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। এতে এখন পর্যন্ত ৬৩৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
 

Link copied!