ইরানি প্রতিনিধিদলকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ রুবিওর


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
ইরানি প্রতিনিধিদলকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ রুবিওর

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। স্থানীয় সময় গত সোমবার রাতে এই নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দ্বিতীয় একটি সূত্র।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে তিনি ও প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা এমনিতেই শিগগির নিউইয়র্ক ছাড়ার পরিকল্পনায় ছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে রুবিওর নির্দেশটি ছিল মূলত একটি বিরল ও কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান গভীর অবিশ্বাসের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।


দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। কিন্তু আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ইরানি প্রতিনিধিদলকে বের করে দিয়েছেন। তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় থেকে গিয়েছিল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষ হয়ে গেছে, তাই তাদের চলে যাওয়ার সময় হয়েছিল।’


সোমবার সকালে হোয়াইট হাউসের ধারণা ছিল, দিনের পরের দিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হতে পারে। কিন্তু বিকেলের শেষ দিকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। এরপর সোমবার সন্ধ্যায় রুবিওর নির্দেশে জাতিসংঘে মার্কিন মিশন নিউইয়র্কে অবস্থিত ইরানি মিশনকে জানায়, আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে অবিলম্বে নিউইয়র্ক ছাড়তে হবে বলে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরাগচিসহ ইরানি প্রতিনিধিদল বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। মঙ্গলবার রাত ১টা ২০ মিনিটে তারা নিউইয়র্ক থেকে দোহার উদ্দেশে একটি ফ্লাইটে ওঠে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দ্বিতীয় একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ওই সূত্র জানিয়েছে, আরাগচির সোমবার রাতেই তেহরানে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

এদিকে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তারা দুই পক্ষের কাছে একটি সমঝোতা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন।

এর আগে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি যাকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেন, সেই ইরানি সরকারের সঙ্গে কীভাবে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমি ওদের উড়িয়ে দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো আমি ওদের উড়িয়ে দেব। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা হয় ওদের উড়িয়ে দেব, নয়তো একটি চুক্তি করব। কিন্তু সময় এসে গেছে। খুব শিগগিরই, যেকোনো একটি উপায়ে এর শেষ হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছাড়ার এই নির্দেশ দেওয়া হলো। আলোচনায় কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় সমঝোতার প্রচেষ্টা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে।

Link copied!