তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ভবিষ্যতে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘মুসলিম বিশ্বের’ জন্য আরও বিস্তৃত একটি জোটে রূপ নিতে পারে। তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার শুক্রবার করেছেন এমন মন্তব্য। তিনি আরও বলেছেন, আগামী মাস থেকে চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে তোলার কথা রয়েছে।
আঞ্চলিক শক্তিগুলো আগস্টে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এর কয়েক সপ্তাহ পরই বৃহত্তর ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবে হামলা শুরু করে। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, এক মিত্রের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো এর কাঠামো নির্ধারণ এবং সৌদি আরবের প্রয়োজন মূল্যায়নে বৈঠক করে আসছে।
আঙ্কারায় সাংবাদিকদের তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ বললেন, ‘আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর করতে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। বর্তমানে চুক্তির আওতায় যে বৈঠকগুলো হচ্ছে, সেগুলো প্রস্তুতিমূলক বৈঠক।’
পার্লামেন্টের অবকাশ শেষ করে অক্টোবরে অধিবেশন শুরুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বললেন, ‘আমি আশা করছি, আগামী সময়ে বিষয়টি পার্লামেন্টের আলোচ্যসূচিতে আসবে।’
চুক্তিটি ইরানের বিরুদ্ধে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কুরতুলমুশ তুরস্কের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। বরং সংঘাত ও ইসরায়েলের ‘শত্রুতাপূর্ণ নীতির’ মধ্যে এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, তেহরানও ভবিষ্যতে এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে।
তিনি বললেন, ‘আমরা কখনোই মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি হিসেবে দেখি না, এমনটা হওয়া উচিতও নয়। বরং আমরা আশা করি, মক্কা চুক্তি মুসলিম বিশ্বের জন্য আরও বিস্তৃত একটি চুক্তিতে পরিণত হবে। ইরানও এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে। আমরা আশা করি, অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের অংশগ্রহণে এটি আরও শক্তিশালী হবে।’
এর আগে আঙ্কারা বলেছিল, বিশেষ করে কারিগরি ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে তারা সহায়তা করতে পারে। তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, যৌথ চুক্তিটি এখনো অনুমোদিত না হওয়ায় এ পর্যায়ে যেকোনো সহায়তা মূলত দ্বিপক্ষীয় হবে এবং দুই দেশের মিত্রতার চেতনায় দেওয়া হবে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধানেরা সৌদি আরবকে সহায়তার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসবেন।
-রয়টার্স



































